Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে আদিবাসী অধ্যুষিত নেকড়াডোবা হবে মডেল গ্ৰাম, পরিদর্শন জেলাশাসকের

ঝাড়গ্রামে আদিবাসী অধ্যুষিত নেকড়াডোবা হবে মডেল গ্ৰাম, পরিদর্শন জেলাশাসকের
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম ব্লকের প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্ৰাম নেকড়াডোবা জেলার প্রথম মডেল গ্ৰাম হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের একটি বড় দল গ্ৰামে পৌঁছয় পরিদর্শন করতে। গ্ৰামবাসীদের দাবিদাওয়ার কথা শোনেন। মডেল গ্ৰাম গড়ে তোলার কাজে গ্ৰামের বাসিন্দাদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন করা হয়। 

Advertisement

জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি ব্লকে একটি গ্ৰামকে মডেল গ্ৰাম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের মধ্যে নেকড়াডোবাই মডেল গ্ৰাম। এখানে পরিকাঠামোগত যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো দেখার জন্য এই পরিদর্শন। গ্ৰামবাসীরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন তা নিয়ে তাঁদের সচেতন করা হয়েছে। সম্মিলিতভাবেই এই কাজ হবে। রাধানগর পঞ্চায়েতের নেকড়াডোবা ও কুটুসগেড়িয়া গ্ৰাম একই সংসদের অন্তর্ভুক্ত। দু’টি গ্ৰামকেই মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

এদিন জেলাশাসক ও আধিকারিকরা প্রথমে স্থানীয় একটি স্কুলে যান। গ্ৰামবাসীদের উপস্থিততে মডেল গ্ৰাম গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। জেলাশাসকের কাছে উপস্থিত গ্ৰামবাসীরা নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরেন। জেলাশাসক সহ প্রশাসনিক দলটি এরপর গ্ৰামের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। জেলাশাসক দুর্গন্ধপূর্ণ ডোবা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গ্ৰামের একটি পুকুরের কাছে পৌঁছে জেলা মৎস্য দপ্তররের এক আধিকারিককে কমিটি গঠন করে মাছ চাষের উদ্যোগ নিতে বলেন। পার্শ্ববর্তী কুটুসগেড়িয়া গ্ৰামে গিয়ে ঝোপঝাড়ে ভর্তি শিশুদের খেলার পার্ক দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে পার্কটি দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে বলেন। গ্ৰামবাসীরা সেখানে চাষের জন্য সাব মার্সিবলের ব্যবস্থা করার কথা জানালে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। বনভূমিতে থাকা শ্মশানে শেড তৈরি করে দেওয়ায় বিষয়টি বনবিভাগের এক আধিকারিককে দেখতে বলেন। পরিকাঠামো গড়ার পর রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালে গ্ৰামের মানুষকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে বলে উপস্থিত গ্ৰামবাসীদের জানান। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু সরেন বলেন, বেশ কিছু দাবিদাওয়া জেলাশাসক ও আধিকারিকদের কাছে তুলে ধরেছি। গ্ৰাম থেকে তিন কিমি দূরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই গ্ৰামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রয়োজন। গ্ৰামে জুনিয়র হাইস্কুল ও সেই সঙ্গে হস্টেলের দাবি জানিয়েছি। প্রাথমিক স্কুলে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠনপাঠনের ব্যাবস্থা করা হলে ভালো হবে। অপর বাসিন্দা কোঁদা টুডু বলেন, এই এলাকায় বছরে একবার চাষ হয়। দু’-একজন সাব মার্সিবল বসিয়ে দু’ বার চাষ করছে। সেচের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে চাষবাসে সুবিধা হবে। এছাড়াও পশ্চিম দিক হয়ে দহিজুড়ে যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটি সংস্কারের প্রয়োজন। রাধানগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান কবিতা মুদি বলেন, এক দশক আগেও গ্ৰামটি দারিদ্র কবলিত ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ নাগাদ পিচ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পানীয় জলের জন্য সাব মার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। আইসিডিএস কেন্দ্রের নতুন ঘর তৈরি করা হয়েছে। মেয়েরা জঙ্গল থেকে শালপাতা, কেঁন্দু পাতা সংগ্রহ করে রোজগার করতেন। এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। গ্ৰামবাসীরা মডেল গ্ৰাম গড়ে তোলার খবরে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ