সংবাদদাতা, বনগাঁ: গোপালনগরের গৃহবধূ রহিমা খাতুন খুনের ঘটনায় প্রতিবেশী যুবক ও তার দিদিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ মহকুমা আদালত। আসামিরা হল বাকিবিল্লা মণ্ডল ও দিদি তারাবানু মণ্ডল। শুক্রবার এডিজে ১ বিচারক কল্লোলকুমার দাস তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। অনাদায়ে দু’টি পৃথক ধারায় যথাক্রমে এক ও দু’বছর অতিরিক্ত হাজতবাসের আদেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে নিখোঁজ হয়ে যান রহিমা খাতুন। পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী বাকিবিল্লা তাঁকে মুম্বাইয়ে পাচার করে দিয়েছে। পুলিশে অভিযোগ করেন রহিমার মা কাবেরা খাতুন মণ্ডল। এই মামলায় তারাবানু গ্রেফতার হয় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি। পরদিন পাকড়াও করা হয় বাকিবিল্লাকে। দু’জনকে জেরা করে বাদুড়িয়ার ঈশ্বরীগাছায় তারাবানু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে রহিমা খাতুনের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এই মামলায় ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এবিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, ‘এটি বিরল থেকে বিরলতম ঘটনা। তাই আমরা ফাঁসির সাজা চেয়েছিলাম। বিচারক সবকিছু বিবেচনা করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
জানা গিয়েছে, গোপালনগর থানার নতিডাঙার বাসিন্দা রহিমা খাতুনের সঙ্গে সাতবেড়িয়ার এক যুবকের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগে থেকেই রহিমার প্রতিবেশী বাকিবিল্লার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই মাঝে বাকিবিল্লা অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে। পরে রহিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তার সূত্র ধরেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রহিমাকে নিয়ে মুম্বই চলে যায় বাকিবিল্লা। সেখানে থাকত বাকিবিল্লার দিদি তারাবানু। অভিযোগ এরা নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত। মুম্বইয়ে থাকাকালীন রহিমা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এরই মাঝে রহিমার সঙ্গে বাকিবিল্লার অশান্তি হয়। সে রহিমাকে বাদুড়িয়া ঈশ্বরীগাছায় দিদির শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না রহিমার। সেখানে দিদি ও ভাই মিলে শ্বাসরোধ করে খুন করে রহিমাকে এবং রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে দেহ পুঁতে দেয়। পুলিশ ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে মেঝে খুঁড়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে। যদিও এদিন আসামি বাকিবিল্লার স্ত্রী দাবি করেন, তাঁর স্বামীকে নির্দোষ, তাকে ফাঁসানো হয়েছে।