নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বাড়িতে একা পেয়ে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠলো প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জগদ্দল থানার ভাটপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামনগর পীরতলা রোড এলাকার ঘটনা। মঙ্গলবার বৃদ্ধাকে খুনের খবর রটতেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত বিপ্লব সরকারকে এলাকার বাসিন্দারা মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে তিনি কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে ভর্তি।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম প্রতিমা বেরা (৬২)। তাঁর তিন বিবাহিতা মেয়ে রয়েছেন। তাই একা থাকতেন প্রতিমাদেবী। এদিন তার এক মেয়ে অন্যান্য দিনের মতো ফোন করলেও ধরেননি তিনি। তখন তিনি এলাকার এক তরুণীকে ফোন করেন। বলেন, মাকে গিয়ে ফোনটা ধরার কথা বলতে। ওই তরুণী প্রতিমাদেবীর বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন বৃদ্ধা। গলায় কালশিটে দাগ। হাতেও কাটা দাগ। তিনি চিৎকার জুড়ে দেন। খবর দেন বৃদ্ধার ওই মেয়েকে। চলে আসেন তিন মেয়েই।
এদিকে, এলাকাবাসীদের অভিযোগ, পীরতলা রোডের দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাঝবয়সি বিপ্লব সরকার লুকিয়ে প্রতিমাদেবীর ঘরে ঢুকেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা এবং গলার সোনার চেন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এতে বাধা দেন বৃদ্ধা। ধস্তাধস্তি হয়। তখন বিপ্লব বৃদ্ধাকে গলা টিপে খুন করেন বলে অভিযোগ। জগদ্দল থানার পুলিস বিপ্লব সরকারকে এলাকাবাসীর মারধরের হাত থেকে রক্ষা করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ধৃতের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে বিক্ষোভ দেখান মৃতার প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃদ্ধার এক মেয়ে সোমা রায় বলেন, আমার মাকে খুন করা হয়েছে। দোষী ব্যক্তির কঠোর শাস্তি চাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ডিসি নর্থ গণেশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনা জানতে হবে।