সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর:
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর:
বারুইপুরের রামনগর গ্রামে চক্রবর্তী পরিবারের কালীপুজো প্রায় ৫০০ বছরের। পরিবারের সদস্য শিক্ষক জয়দীপ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশে পাথরের মূর্তি পেয়েছিলেন। সেই মূর্তির অনুকরণেই নিম গাছের কাঠের গুঁড়ি কেটে খোদাই করে মায়ের মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর সেটি রং করা হয়। আমরা মায়ের নিত্যপুজো করি। জনশ্রুতি আছে, বশিষ্ট পরম্পরার সাধক ভৈরবানন্দ স্বামীর আরাধ্যা দেবী ছিলেন এই কালী। ভৈরবানন্দ সুলতানি আমলে যশোর থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।
আমাদের বাড়ির মায়ের মূর্তি অনেকটা বাড়ির মেয়ের মতো, অন্য কালী মূর্তির মতো নয়। আমাদের মায়ের গায়ের রং নীল। মায়ের হাতে, গলায় নেই মুণ্ডমালা। মায়ের জিভ বের হয়নি। অবশ্য মায়ের হাতে কিছু তান্ত্রিক মুদ্রা আছে। মায়ের পায়ের তলায় আড়াআড়ি ভাবে শিবের অবস্থান পদ্মের উপরে। মায়ের বাঁ পা সামান্য এগনো। তাই মাকে বামা বলেন পরিবারের সদস্যরা।
জয়দীপ আরও জানান, মায়ের নির্দেশেই আমাদের পরিবারে বলি প্রথা বন্ধ হয়েছে। এক্ষেত্রেও মা পরিবারের এক পূর্বপুরুষকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, তিনি রক্ত পছন্দ করেন না। তারপরই বলি বন্ধ হয়। এছাড়া সারা বছর একটি বিশেষ ধ্যান মন্ত্রে মায়ের পুজো হয়। তবে কালীপুজোর রাতের পুজোর মন্ত্র সম্পূর্ণ আলাদা। দক্ষিণাকালিকার ধ্যান মন্ত্রে মা পূজিত হন। প্রাচীন পারিবারিক পুঁথির রীতি মেনে পুজো হয়। এতে কিছু তান্ত্রিক ক্রিয়াও আছে। রীতি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরাই পূজোয় বসেন। মায়ের পুজোর শেষে শিবাভোগ দেওয়ার প্রথা আজও চালু আছে, অর্থাৎ মাকে ভোগ দেওয়ার শেষে শোল মাছ পুড়িয়ে রেখে দেওয়া হয়। এছাড়া মায়ের ভোগ সম্পূর্ণ নিরামিষ হয়। সাদা ভাত থেকে খিচুড়ি, পায়েস সবই দেওয়া হয়। চক্রবর্তী পরিবারের পূজোয় ভোগ খেতে দূরদূরান্তের মানুষজন ভিড় করেন। কালীপুজোর সময়েই দীপান্বিতা লক্ষ্মীপুজোও অনুষ্ঠিত হয় ওই পরিবারে।