নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার সেকেন্ডারি স্কুলগুলিতে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকের ঘাটতি কিছুটা হলেও মিটতে চলেছে। বিগত ডিসেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত নদীয়া জেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচশো জন শিক্ষক বিভিন্ন স্কুলে যোগদান করেছেন। এতে স্কুলগুলোতে শিক্ষকের ঘাটতি অনেকটাই মিটেছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে শিক্ষকের অপ্রতুলতার কারণে, দীর্ঘদিন ধরে বহু স্কুল সমস্যায় ভুগছিল। নতুন করে একাধিক শিক্ষক নিযুক্ত হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে স্কুল কর্তৃপক্ষও। নদীয়া জেলাজুড়ে ৬৭২টি শূন্য পদ রয়েছে। শূন্য পদে অ্যাপয়েন্ট পাওয়ার পরেও যদি কোনও শিক্ষক কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার জন্য জেলায় পর্যাপ্ত রিজার্ভড শিক্ষক রয়েছেন।
নদীয়া জেলার ডিআই শুভ্রকান্তি নন্দ বলেন, ‘যে সমস্ত শূন্য পদ রয়েছে, সেখানে শিক্ষকরা যোগদান করছেন। ডিসেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ৫৩৬ জন শিক্ষক ইতিমধ্যেই জয়েন করেছেন।’
তেহট্ট-১ ব্লকের অন্তর্গত দেবনাথপুর শরৎ সরকার হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০৭৫ জন। কিন্তু সেই স্কুলে এতদিন শিক্ষক ছিলেন মাত্র কুড়ি জন। সেইসঙ্গে বেশ কয়েকজন প্যারাটিচার ছিলেন। গত বছর ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকেই পাঁচজন অতিরিক্ত শিক্ষক সেই স্কুলে জয়েন করছেন। যদিও সেই স্কুলে শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ছ’টি। একজন শিক্ষক জয়েন করেননি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপসকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নতুন শিক্ষক পাওয়ায় আমাদের খুব উপকার হয়েছে। জানুয়ারি মাসে সেশন শুরুর সময় থেকেই তাঁদের বিভিন্ন ক্লাসের দায়িত্ব দিতে পেরেছি। দু’জন ইংরেজি শিক্ষক, একজন সংস্কৃতর শিক্ষক এবং দু’জন বিজ্ঞানের শিক্ষক আমরা পেয়েছি।’
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেই পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি অর্থাৎ উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কাটে। রাজ্যজুড়ে ১৪ হাজার চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট এসএসসির তরফে ইন্টারভিউয়ের জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। তারপর মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই একাধিক অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। তারপর থেকেই ঝুলে ছিল সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া। অবশেষে সেই জটিলতা কাটিয়ে ফের স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের নিয়োগ করার কাজ জোরকদমে চালু হয়েছে। সেইমতো ধাপে ধাপে নদীয়া জেলার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকরা কাজে যোগ দিচ্ছেন। মহিষবাথান মনোজমোহন বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ছ’জন শিক্ষক জয়েন করেছেন। তার মধ্যে তিনজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। এর ফলে স্কুলের অনেক উপকার হয়েছে।’ নদীয়া জেলার গ্রামগঞ্জে বহু স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, করিমপুর, তেহট্ট সহ বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট ভয়ঙ্কর। তাতে ক্ষতি হচ্ছে পঠন পাঠনের। অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর, রানাঘাটের মতো শহরের অনেক স্কুলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। অথচ গ্রামের স্কুলে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই কম। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নদীয়া উত্তরের সভাপতি দিলীপ সিংহ বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন নিয়োগ হোক। অনেক স্কুলে শিক্ষকের সমস্যা ছিল। এখন তা অনেকটাই মিটছে।’