নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চাকরি খোয়ানো প্রায় ২০০ শিক্ষক তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে ২৪ কোটি টাকা লোন নিয়েছেন। শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকরি খোয়ানোর পর কীভাবে লোনের টাকা উদ্ধার হবে তা নিয়ে অথৈ জলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ব্যাঙ্কের লোন কমিটির একটি মিটিং ছিল। সেখানে চেয়ারম্যান গোপালচন্দ্র মাইতি, ভাইস চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া সহ ম্যানেজাররা উপস্থিত ছিলেন। পূর্ব নির্ধারিত এদিনের মিটিংয়ের এজেন্ডায় চাকরি হারানো শিক্ষকদের লোনের বিষয়টি না থাকলেও সেই ইস্যু মিটিংয়ে ওঠে আসে। আগামী ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোরে মিটিং করবেন। সেই মিটিংয়ের হাল হকিকত দেখে আগামী ৮ এপ্রিল ব্যাঙ্কের মিটিং ডাকা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে চাকরি খোয়ানো শিক্ষকদের লোনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তিনটি মহকুমা জুড়ে তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পরিধি। মোট শাখার সংখ্যা ২৬। কয়েক হাজার শিক্ষক এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক। তাঁদের অনেকেই এই ব্যাঙ্ক থেকে হোম লোন, পারসোনাল লোন নিয়েছেন। রাতারাতি ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে অযোগ্য শিক্ষকদের সুদ সমেত মাইনে ফেরত দিতে হবে।
এরকম অনেক শিক্ষকও ঋণগ্রহীতা। এখন তাঁরা অধিকাংশই লোন শোধ করার জায়গায় নেই। তাহলে চাকরি খোয়ানো শিক্ষকদের কাছ থেকে লোনের টাকা আদায়ের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একঝাঁক প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরি খারিজ হয়েছিল। সেসময়ও ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষক- শিক্ষিকাদের মধ্যে ঋণীদের চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। লোনের টাকা শোধ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে নোটিস পৌঁছে গিয়েছিল বাড়িতে। পরবর্তীতে সেই রায়ে স্থগিতাদেশ হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু, এবার সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেল বাতিল করেছে। অযোগ্য ছ’হাজারের বেশি শিক্ষক ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষায় বসতেই পারবেন না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার দরজা বন্ধ। এরকম অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাও ওই ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছেন। তাঁদের নিয়ে ব্যাঙ্কের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকার লোনের টাকা বকেয়া থাকলে এনপিও বাড়বে। তাতে ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থা খারাপ হবে। তাই গোটা বিষয়টি উদ্বেগজনক।
শুধু তমলুক ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ নয়, এই সঙ্কট বেসরকারি থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং অন্য সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কাছেও প্রকট হয়ে উঠেছে। অন্যান্য ব্যাঙ্কের তুলনায় তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে শিক্ষকদের লোনের পরিমাণ বেশি। ঘাটাল, তমলুক এবং হলদিয়া মহকুমার বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক। যেকারণে এই ব্যাঙ্কের কাছে বকেয়া লোন আদায় এখন চ্যালেঞ্জ।
ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া বলেন, প্রায় দুশো শিক্ষক-শিক্ষিকা লোন নিয়েছেন। সেই টাকার পরিমাণ ২২ থেকে ২৪ কোটি হবে। শুক্রবারই আমাদের লোন কমিটির একটি মিটিং হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল এই ইস্যু নিয়ে মিটিং হবে।