Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কাঁচরাপাড়ার স্কুলে উদ্ধার প্রায় ২ কোটি! সিক রুমে কন্ডোম টাকা কার? তদন্তে পুলিশ

কাঁচরাপাড়ার স্কুলের সিক রুমে উদ্ধার হয়েছে ১.৭৭ কোটি টাকা। তদন্তে পুলিশ, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য পলাতক। বিস্তারিত পড়ুন।

কাঁচরাপাড়ার স্কুলে উদ্ধার প্রায় ২ কোটি! সিক রুমে কন্ডোম  টাকা কার? তদন্তে পুলিশ
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের উই খাওয়া টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর এবার শিরোনামে কাঁচরাপাড়ার এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। হার্নেট হাইস্কুল নামে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি বন্ধ ঘরের ভল্ট থেকে উদ্ধার হওয়া বান্ডিল বান্ডিল টাকা গুনতে বুধবার রাত কাবার হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। শুধু টাকা নয়, স্কুলের ‘সিক রুম’ থেকে মিলেছে কন্ডোমও। কাড়ি কাড়ি টাকা আর কন্ডোম উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন শুরু হয়েছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পালের কথায়, ওই টাকা থাকার বিষয়ে কিছু জানা নেই। এই ঘটনায় স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, পরিচালন সমিতির সম্পাদক গৌতম ঘোষ দস্তিদার ও অ্যাকাউট্যান্ট অভীক নাগ ও  জুনিয়র অ্যাকাউট্যান্ট সায়ন পালের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন প্রিন্সিপাল। বীজপুর থানার পুলিশ স্কুলের দুই অ্যাকাউট্যান্টকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।  

Advertisement

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বীজপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি বলেন, তৃণমূল আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা কী দেখুন! স্কুলে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। সঙ্গে আপত্তিকর জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। ভাবা যায়! তাঁর অভিযোগ, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিকের কালো টাকা এখানে গচ্ছিত রয়েছে। বছর দুয়েক আগে তাঁদের বাড়িতে সিবিআই রেইড হয়েছিল। তাই স্কুলটাকে নিশ্চিত আশ্রয় ভেবে ওই টাকা রাখা হয়েছে। তবে অভিভাবকদের চিন্তা নেই, স্কুল যেমন চলছে, তেমনই চলবে।
স্কুল এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ মে’র পর থেকে স্কুলের অ্যাকাউট্যান্ট অভীক নাগ স্কুলে আসছিলেন না। বুধবার তিনি স্কুলে এসে পদত্যাগ করতে চান। তখন প্রিন্সিপাল সহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁর কাছে স্কুল তহবিলের কত টাকা রয়েছে, তার হিসাব চান। অভীক তখন একটি ভল্ট খুলে ২৬ লক্ষ টাকা ভরতি একটি ব্যাগ প্রিন্সিপালের হাতে তুলে দেন। প্রিন্সিপাল সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা দেখেন, সেখানে আরও টাকার ব্যাগ রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বীজপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আসা হয়। এদিন ভোর পাঁচটায় গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ। গণনা শুরু হওয়ার সময় স্কুলের প্রিন্সিপাল প্রথমে বলেছিলেন, স্কুলের অ্যাডমিশন বা ডেভেলপমেন্ট ফি বাবদ আদায় হওয়া অর্থ হতে পারে। কিন্তু পরে টাকার অঙ্ক দেখে তাঁরও সন্দেহ হয়। তিনি থানায় এফআইআর করেন। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকার উৎস সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি কমল অধিকারী এবং পরিচালনা সমিতির সম্পাদক গৌতম ঘোষ দস্তিদার পলাতক। ওই স্কুলে অনেক আর্থিক তছরূপের অভিযোগ রয়েছে। তা নিয়ে কমল অধিকারীর বিরুদ্ধে দিন দুয়েক আগে এক কাউন্সিলার অভিযোগ করেছেন। সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তদন্ত পর্বে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ