নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে বাঘ গণনার কাজ। দক্ষিণরায়ের ছবি তুলতে সমগ্র সুন্দরবনে মোট ১,৪৮৪টি ক্যামেরা বসানো হবে। সব মিলিয়ে ৪,১০০ বর্গকিমি এলাকাজুড়ে বাঘের গতিবিধি নজরবন্দি করবে এই ক্যামেরা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাঘের ছবি সংগ্রহ করা হবে। তবে এবার শুধু বাঘ গণনা নয়, পাশাপাশি তাদের গতিবিধি, খুনসুটি, খাদ্যের জোগান কেমন, তাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। অর্থাৎ, বাঘ যাদের শিকার করে, বিশেষ করে হরিণ বা বুনো শুয়োর বা অন্যান্য প্রাণীদের উপস্থিতি কেমন, তাও পর্যালোচনা করা হবে। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গলে খাবারের জোগান কমে আসায় মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে চলে আসছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এই ধারণা সঠিক কি না, তা যাচাই করতেই এবারই প্রথম এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কাজের জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। ওই অ্যাপের সাহায্যেই গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারবেন বনদপ্তরের কর্তারা।
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকায় বাঘের পর্যাপ্ত খাবার আছে কি না, তা জানা জরুরি। সমীক্ষা থেকে কী তথ্য উঠে আসে, তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা আঞ্চলিক বনবিভাগ এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের আওতাধীন জঙ্গলে একসঙ্গেই শুমারির কাজ হবে বলে জানানো হয়েছে।
জঙ্গলের কোন অংশে কীভাবে ক্যামেরা বসানো হবে, সে ব্যাপারে একপ্রস্থ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বনকর্মীদের। সূত্রের খবর, ২৬ নভেম্বর থেকে জঙ্গলে ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজে মোট আড়াইশো কর্মীকে বিভিন্ন জায়গায় নিযুক্ত করা হবে। বনবিভাগের এক কর্তার কথায়, বাঘদের খুনসুটি, কে কখন দৌড়ে শিকার করছে, শাবকদের নিয়ে মা বিশ্রাম নিচ্ছে, এসব ছবি গতবার ধরা পড়েছিল। আশা করছি, এবার আরও অনেক অজানা তথ্য উঠে আসবে। প্রসঙ্গত, দু’বছর আগে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৯৬। বিগত রিপোর্টে তার উল্লেখ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এবার বাদাবনে একশোরও বেশি দক্ষিণরায়ের হদিশ মিলবে।



