নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ঊর্ধ্বমুখী অটো ও টোটোর দাপট! তার জেরেই বীরভূম জেলার একাধিক রুটে বেসরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে জেলার প্রায় ১৮টি রুটে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার কোনও রুটের অধিকাংশ বাসের চাকা থমকে গিয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি বাস চলাচল করছে। সব মিলিয়ে সেই সংখ্যা প্রায় ১০০ ছুঁই ছুঁই। ঘটনায় জেলার বেসরকারি বাস পরিষেবা প্রশ্নের মুখে। লাভের পরিবর্তে ক্ষতির মুখোমুখি বাস মালিকরা। অভিযোগ, নিত্যদিন টোটোও অটোর লাগামহীন দৌরাত্ম্যের জেরে বাস পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ছে। বাস মালিকদের দাবি, দ্রুত টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যে লাগাম টানা সম্ভব না হলে আরও একাধিক রুটের বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হবে। এবিষয়ে জেলা বাস মালিক সমিতির সহ সম্পাদক তন্ময় পৈতুন্ডি বলেন, আমরা টোটো অটোর বিরুদ্ধে নই। তবে টোটো ও অটো যেভাবে নিয়ম ভেঙে যাত্রী পরিবহণের কাজ করছে তার জেরে বাসের যাত্রী সংখ্যা কমছে। ফলে বাস চালাতে গিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যে রাশ টানুক। অন্যথায় আরও বাসের চাকা অচিরেই থমকে যাবে। রুটিরুজির তাগিদে আমাদের পেশা বদলের পথে হাঁটতে হবে।
জানা গিয়েছে, রামপুরহাট মহকুমা এলাকায় মোট ১১টি রুটে বাস পরিষেবা বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। যদিও বছর কয়েক আগেও রামপুরহাট থেকে শালবাদরা, বধুরা, ভবানন্দপুর, মুরারই-হরিশপুর সহ একাধিক রুটে প্রায় ৪০টি বাস চলাচল করত। প্রতিটি রুটই লাভজনক ছিল। তবে, টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে বাসের যাত্রী সংখ্যা কমতে শুরু করে। আয় ক্রমশ তলানিতে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে ১১টি রুটে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হয়। একইভাবে বোলপুর মহকুমাতেও ৬টা রুট খুব লাভজনক ছিল। মাহেশাপুর, পাসোয়া সহ একাধিক রুটে বাস চালিয়ে আয় ভালোই হতো। সেখানেও টোটো অটোর দাপটে ২৫টি বাসের চাকা পুরোপুরি থমকে গিয়েছে। এছাড়াও সিউড়ি মহকুমার লাভজনক রুটেও বাসের সংখ্যা কয়েকগুণ কমে গিয়েছে। এক সময় সিউড়ি-সাঁইথিয়া রুটে প্রায় ৩০টি বাস চলাচল করত। যদিও বর্তমান সময়ে ওই রুটে মাত্র ২টি বাস চলাচল করে। বাকি ২৮টি বাসের চাকা বহু আগেই থমকে গিয়েছে। অন্যদিকে, সিউড়ি সাহাপুর রুটে ২টি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্য লাগামহীন। শহরের গলিপথ ছেড়ে জাতীয় সড়ক দাপাচ্ছে টোটো। অটোওগুলিও রুট ভেঙে চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাস মালিক ও চালকদের কথায়, পরিস্থিতির বদল না হলে আগামীতে বাসের সংখ্যা আরও কমে যাবে। যাত্রীমহলের একটা অংশ যথেষ্ট চিন্তিত। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেকেই। তাঁদের কথায়, টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যে রাশ টানা প্রয়োজন। জেলার প্রশাসনিক কর্তারাও অবশ্য সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যে রাশ টানতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিউড়ি শহর টোটো-অটো ইউনিয়নের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরাও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। গুটিকয় অটো ও টোটো চালকের ভুলের মাশুল গুনছে বেসরকারি বাসগুলি। আমরা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী। দ্রুত এনিয়ে বাস মালিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করব। আমরা আশাবাদী এই সমস্যার সমাধান হবে।