Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া জেলায়১৪০টি প্রাথমিক স্কুলে শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন

নদীয়া জেলায়১৪০টি প্রাথমিক স্কুলে শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় ১৪০টি প্রাথমিক স্কুলে শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন। জানুয়ারি মাসের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে তা চালু হবে বলে জানা গিয়েছে। তারপর ধীরে ধীরে জেলার বাকি স্কুলগুলিতেও তা চালু করা হবে‌। নদীয়া জেলায় মোট ২৬৩৮টি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। ধাপে ধাপে সেই সমস্ত স্কুলেও পঞ্চম শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে গোটা প্রক্রিয়ায় স্কুলের পরিকাঠামোকে সেভাবে গড়ে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অধিকাংশ স্কুলেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। সেই সমস্ত জায়গায় নতুন করে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করতে হবে। যদিও প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা স্কুলগুলোতেই পঞ্চম শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। সেই বিষয়টিও নজর রেখেছে জেলা শিক্ষাদপ্তর। 
Advertisement
নদীয়া জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক সুকুমার পশারি বলেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই স্কুলগুলিকে বাছাই করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে সেখানেই পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন শুরু করা হবে। ধীরে ধীরে বাকি স্কুলেও পঞ্চম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেই মতো কাজ চলছে। 
প্রসঙ্গত, শুধু নদীয়া জেলা নয়, গোটা রাজ্যেই বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন শুরু হচ্ছে ২০২৫ সাল থেকে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, আগামী বছর জানুয়ারি মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে ২,৩৩৫টি প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি যোগ করা হতে চলেছে। সেই স্কুলের তালিকাও তৈরি করেছে স্কুল শিক্ষাদপ্তর। তাতে নদীয়া জেলার ১৪০টি স্কুলের পাশাপাশি বীরভূমের ১১৯টি, পুরুলিয়ার ২৪টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৬৫টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ৬১টি, উত্তর ২৪ পরগনার ১৯৮টি,  দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩২৭টি, মালদহের ২২৯টি, হাওড়ার ১৪৫টি, পূর্ব বর্ধমানের ৮৩টি, বাঁকুড়ার ৪৫টি সহ বহু প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন শুরু হচ্ছে। নদীয়া উত্তর তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষা সেলের সভাপতি কিংশুক দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক স্কুলের পঠন-পাঠনকে আরও উন্নত করতে চাইছেন। তাই পঞ্চম শ্রেণিকে প্রাথমিক স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকাঠামোগত সমস্যা যে সমস্ত স্কুলে রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান করা হবে। 
তবে নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বহু প্রাথমিক স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক সঙ্কট প্রবল। হাতেগোনা কিছু শিক্ষক নিয়ে কোনওরকমে স্কুল চলছে। তার উপর রয়েছে মিড ডে মিলের খরচের বোঝা, যা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্কুলগুলিকে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদেরও প্রাথমিক স্কুলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। 
অল বেঙ্গল প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদিকা অর্চনা বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যাতে পঞ্চম শ্রেণিকে প্রাথমিক স্কুলের  সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তার আগে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করার কথাও আমরা বলেছিলাম। কিন্তু স্কুলগুলোর পরিকাঠামো ঠিক না করেই পঞ্চম শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কারণ পঞ্চম শ্রেণি শুরু করতে গেলে, প্রাইমারি স্কুলের ছটি শ্রেণি কক্ষ দরকার।‌ কিন্তু অধিকাংশ জায়গাতেই পাঁচটি করে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। তাই পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন কী করে হবে, তাই নিয়ে আমরাও উদ্বেগে রয়েছি।’
সম্পর্কিত সংবাদ