নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় ঘর পাচ্ছেন লক্ষাধিক উপভোক্তা। আবেদনকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এই মুহূর্তে প্রাথমিক উপভোক্তাদের টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তা শেষ হলেই বাকিদের অ্যাকাউন্টেও প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। নদীয়া জেলায় সবমিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৩৩ হাজার উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা পাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জেলা প্রায় এক হাজার ভূমিহীন উপভোক্তার নাম রয়েছে এই যোগ্য প্রাপকদের তালিকায়। অর্থাৎ তাদের রাজ্য সরকার পাট্টা দিয়ে তারপর মাথার উপর ছাদ তৈরির অর্থ দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে নদীয়ার উপভোক্তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে প্রাথমিক যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কাজ চলছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত এই কাজ হবে। তারপর রাজ্য থেকে যেমন ভাবে টাকা আসবে, সেইমতো বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির টাকা পৌঁছে যাবে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার জবাবে রাজ্য সরকার একাই উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির টাকা দিচ্ছে। বছরান্তে ফের নতুন করে সমীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় আবাস যোজনার পুরনো আবেদনকারী নামের পাশাপাশি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে আবেদনকারী, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভিটেহারা মানুষদের নামও রাখা হয়। মোট ১ লক্ষ ৮১ হাজার আবেদনকারীর তালিকা নিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ১ লক্ষ ৬৭ হাজার উপভোক্তার নাম ছিল। সেই তালিকার ৫১ হাজার উপভোক্তার নাম অনুমোদন করা হয়েছিল আগেই। বাকি ১ লক্ষ ১৮ হাজার উপভোক্তা ছিল পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টের তালিকায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় মোট ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮১০ জন আবেদনকারী রয়েছেন। যার মধ্যে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১১৭ জন আবেদনকারীকে যোগ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার আবেদনকারীর নাম। সেইসঙ্গে হদিশ পাওয়া যায়নি ১৪ হাজার ১০৯ জন আবেদনকারীর। সেই সমস্ত ভূতুড়েআবেদনকারীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে। বহু বছর ধরে ছাদহীন পরিবারগুলি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে। চাপড়ার আলফা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আদারানি মণ্ডল বলেন, ‘আমি বহুদিন ধরে বাড়ির জন্য সাহায্য পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু মোদি সরকারের কাছে কখনও কিছু পাইনি। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই আমি খুব খুশি।’



