Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীবাঁধ মেরামতি হয়নি, বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীদের

নদীবাঁধ মেরামতি হয়নি, বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীদের
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত নদীবাঁধ মেরামতির কোনও উদ্যোগই নেয়নি। খানাকুলে আবাস নিয়ে গ্রাম সভায় এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বাসিন্দারা। আবাস নিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার আরামবাগ মহকুমার ৬৭টি পঞ্চায়েতে গ্রাম সভার আয়োজন করে প্রশাসন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে যোগ্য প্রাপকের তালিকা প্রস্তুত করতে এই বিশেষ সভা হয়। সেখানেই নদী বাঁধ মেরামতির প্রসঙ্গ ওঠায় বিপাকে পড়ে খানাকুল-২ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের প্রধান সহ সদস্যরা। বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমনে এদিনই এলাকায় গিয়ে বাঁধ খতিয়ে দেখান পঞ্চায়েতের প্রধান কার্তিক ঘোড়া। কার্তিকবাবু অবশ্য এব্যাপারে বিগত তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বোর্ডের দিকে আঙুল তুলেছেন। 
Advertisement
উল্লেখ্য, বাংলা বাড়ি প্রকল্পে আবাসের সুবিধা দিতে গত বুধবার থেকে বিশেষ গ্রাম সভা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের সভা হয়। সেখানে আবাস প্রাপক অনেক পুরুষ মহিলা আসেন। ওই সভাতেই আবাসের নানা দাবির সঙ্গে ওঠে নদী বাঁধের প্রসঙ্গও।
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম শাসমল বলেন, এবারে বর্ষার সময় ধর্মতলা শাসমল পাড়ায় রূপনারায়ণের বাঁধে গর্ত দেখা যায়। তা দিয়ে বন্যার জল ঢুকতে থাকে। পঞ্চায়েত, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বাসিন্দারা মিলে বস্তা দিয়ে সেই গর্ত বোজানো হয়। ওই অংশ মেরামতি না হলে আমাদের বিপদ বাড়বে। অনেকের পাকা বাড়ি রয়েছে। বন্যার জলের তোড়ে সেগুলি ভেঙে যাবে। 
স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও বেহাল রাস্তা নিয়েও সরব হন। গ্রাম সভায় উপস্থিত প্রধান সহ প্রশাসনের অধিকারিকদের সেব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, আমরা বোর্ড গঠন করার পর এবারই প্রথম এলাকায় বড় বন্যা হয়েছে। নদীর জল না বাড়লে বোঝার উপায় নেই বাঁধের কোথায় সমস্যা রয়েছে। বিগত বোর্ডের সময় বাঁধ মেরামতের কাজ শক্তপোক্ত হয়নি। তবে এদিন বাসিন্দারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, তার ভিত্তিতে সেচদপ্তরকে শীঘ্রই জানাব। 
পাল্টা খানাকুল-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূলের নুর নবী মণ্ডল বলেন, রাজ্য সরকারই আবাসের বরাদ্দ দিচ্ছে। কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ করেছে। আমাদের বোর্ড সেখানে থাকার সময় নদী বাঁধের একাধিক কাজ হয়েছে। মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে এনেছে। কিন্তু, তারা মানুষের পাশে নেই। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিভিন্ন পঞ্চায়েতের গ্রাম সভায় বাসিন্দারা আবাস নিয়ে নানা দাবি জানান। অনেকের নাম তালিকায় যুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। কোথাও কোনও বিশৃঙ্খলা হয়নি। গ্রাম সভা শেষে রেজ্যুলিউশনও করা হয়েছে। 
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন গ্রাম সভায় কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আসেনি। যদি কেউ আবাস নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ জানায়। সেগুলির প্রত্যেকটির তদন্ত হবে। তারপর ব্লকস্তর থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ