সুখেন্দু পাল, ইলামবাজার: প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে জয়দেবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুণ্যার্থীরা আসেন। পুণ্যলাভের আশায় তাঁরা অজয়ে ডুব দেন। তাঁরা কতটা পুণ্য অর্জন করেন, সেটা জানা সম্ভব নয়। কিন্তু এই অজয়ের ‘আশীর্বাদ’এ ইলামবাজারের অনেককেই রাতারাতি কোটিপতি হতে দেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। একসময় এলাকার বাসিন্দারা যাদের আড়চোখে দেখতেন এখন তারাই সমাজসেবী। অজয় নদ তাদের কাছে যেন ‘স্বর্ণখনি’। এই খনি দখলে রাখতে তারা মরিয়া। তারজন্য ‘যুদ্ধে’ যেতেও তারা রাজি। অজয়ের ঘাটগুলি থেকে বালি তুলে অনেকেরই ভোল বদলে গিয়েছে। প্রভাবশালীদের হাত মাথায় থাকায় তাদের বাধা দেওয়ার সাহস কারও ছিল না। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালি, পাথর, কয়লা পাচার বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। দিনের আলোয় অজয়ের চরে তাই বালি মাফিয়াদের সেই দাপাদাপি নেই। তবে কতদিন বন্ধ থাকবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে রয়েছেন। কারণ নদীঘাটে টাকা উড়ছে। তা ধরার লোভ সংবরণ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়, বলছেন বাসিন্দারা। বালির কারবারে হাত পাকিয়ে অনেকেই ‘শিল্পপতি’ হয়ে গিয়েছেন।
Advertisement
ইলামবাজারের এক ‘দাদা’র নামে অসামাজিক কাজের জন্য বিভিন্ন থানায় অভিযোগ রয়েছে। একসময় কোনওরকমে তাঁর দিন গুজরান হতো। অজয়ের ঘাটে নামার পরই তাঁর জীবনযাপন বদলে গিয়েছে। তাঁকে চারচাকা গাড়িতে ঘুরতে দেখে এলাকার অনেকেই অবাক হয়ে যান। বেনামে বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি রয়েছে। গঙ্গাপুর, ক্ষুদ্রপুর বালির ঘাট এলাকায় তাঁরই ‘জমিদারি’ চলে।
আর এক ব্যক্তি সরকাবি অফিসে গাড়ি চালাতেন। মধ্যবিত্ত সংসার ছিল তাঁর। এখন তাঁর জীবনযাপন কর্পোরেট কর্তাদের লজ্জায় ফেলে দেয়। এখন একাধিক গাড়ির মালিক। তাঁর বিপুল সম্পত্তি। আর এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা পুরোহিতের কাজ করতেন। পুজো করে তাঁরা দিন কাটাতেন। সেই পরিবারের ছেলে অজয়ের ঘাট দখল করার পরই সংসারের ভোল বদলে যায়। ইটভাটা সহ একাধিক কারবার রয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান এখন এলাকায় ‘ধনী’ ব্যক্তির শিরোপা পেয়েছেন। এই তালিকা দীর্ঘ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অজয়ের সৌজন্যে শুধু এলাকার নেতা-নেত্রীর নয়, অনেকেরই পকেট ভারী হয়েছে।
অজয়ের তীরে জয়দেবের ঘাটে দেখা হল কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, এখন কড়াকড়ি রয়েছে। দিনে কিছু হয় না। তাই এলাকা শান্ত রয়েছে। কিন্তু, কড়াকড়ি উঠে গেলেই আবার অবৈধ ঘাট তৈরি হবে। সেইসময় ইলামবাজারে টাকা যেমন উড়বে, তেমনই অশন্তির কালো মেঘও দেখা যাবে। বালি ঘাটের দখল নেওয়ার জন্য প্রতিবারই মাফিয়াদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। অবৈধ ঘাট করতে পারলে সরকারকে রাজস্ব দিতে হয় না। ঘাট থেকে দেদার বালি তুলে দিনরাত পাচার চলতে থাকে। ‘সেটিং’ থাকায় বালি ভর্তি ট্রাক নিরাপদে পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট ঠিকানায়। এখন সেই ছবি দেখা না যাওয়ায় শান্তির পরিবেশ রয়েছে অজয়ের পাড়ে। মকর সংক্রান্তির দিন এগিয়ে আসছে। পুণ্যলাভের আশায় এবারও কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হবে জয়দেবে। ততদিনের অজয়ের ঘাটে বালি মাফিয়াদের ‘পুণ্যলাভ’ হয় কি না সেটাই দেখার। (চলবে)
আর এক ব্যক্তি সরকাবি অফিসে গাড়ি চালাতেন। মধ্যবিত্ত সংসার ছিল তাঁর। এখন তাঁর জীবনযাপন কর্পোরেট কর্তাদের লজ্জায় ফেলে দেয়। এখন একাধিক গাড়ির মালিক। তাঁর বিপুল সম্পত্তি। আর এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা পুরোহিতের কাজ করতেন। পুজো করে তাঁরা দিন কাটাতেন। সেই পরিবারের ছেলে অজয়ের ঘাট দখল করার পরই সংসারের ভোল বদলে যায়। ইটভাটা সহ একাধিক কারবার রয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান এখন এলাকায় ‘ধনী’ ব্যক্তির শিরোপা পেয়েছেন। এই তালিকা দীর্ঘ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অজয়ের সৌজন্যে শুধু এলাকার নেতা-নেত্রীর নয়, অনেকেরই পকেট ভারী হয়েছে।
অজয়ের তীরে জয়দেবের ঘাটে দেখা হল কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, এখন কড়াকড়ি রয়েছে। দিনে কিছু হয় না। তাই এলাকা শান্ত রয়েছে। কিন্তু, কড়াকড়ি উঠে গেলেই আবার অবৈধ ঘাট তৈরি হবে। সেইসময় ইলামবাজারে টাকা যেমন উড়বে, তেমনই অশন্তির কালো মেঘও দেখা যাবে। বালি ঘাটের দখল নেওয়ার জন্য প্রতিবারই মাফিয়াদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। অবৈধ ঘাট করতে পারলে সরকারকে রাজস্ব দিতে হয় না। ঘাট থেকে দেদার বালি তুলে দিনরাত পাচার চলতে থাকে। ‘সেটিং’ থাকায় বালি ভর্তি ট্রাক নিরাপদে পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট ঠিকানায়। এখন সেই ছবি দেখা না যাওয়ায় শান্তির পরিবেশ রয়েছে অজয়ের পাড়ে। মকর সংক্রান্তির দিন এগিয়ে আসছে। পুণ্যলাভের আশায় এবারও কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হবে জয়দেবে। ততদিনের অজয়ের ঘাটে বালি মাফিয়াদের ‘পুণ্যলাভ’ হয় কি না সেটাই দেখার। (চলবে)



