Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া উত্তরে নির্দিষ্ট সময়ে সদস্যপদ সংগ্রহের টার্গেট পূরণে ব্যর্থ বিজেপি

নদীয়া উত্তরে নির্দিষ্ট সময়ে সদস্যপদ সংগ্রহের টার্গেট পূরণে ব্যর্থ বিজেপি
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নির্দিষ্ট সময়ে সদস্যপদ সংগ্রহের টার্গেট পূরণ করতে ব্যর্থ হল নদীয়া উত্তরের বিজেপি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকগুলোতে সদস্যপদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় গেরুয়া শিবিরকে। যার জন্যই সময়মতো টার্গেট পূরণ হয়নি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যক সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তার নিরিখে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নদীয়া উত্তর বিজেপির সংগঠনিক জেলা, এমনটাই দাবি পদ্ম শিবিরের নেতাদের। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার জন্য শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব থেকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে নদীয়া উত্তর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতাদের। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সদস্য পদ সংগ্রহের কাজ চলবে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যেই রাজ্যে বিজেপির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে হবে। যদিও এনিয়ে ঘাসফুল শিবিরের কটাক্ষ, ‘জনসমর্থন নেই। তাই বাড়ি গিয়ে গিয়ে জোর করে সদস্যপদ বাড়াচ্ছে। এতে লাভ হবে না বিজেপির।’
Advertisement
নদীয়া উত্তর বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক জেলা সদস্যপদ সংগ্রহের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আমরা অতিরিক্ত সময় পেয়েছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা দেড় লক্ষ সদস্যপদ সংগ্রহ করতে পারব। সেইমতো দলের কর্মীরা গ্রাউন্ড জিরোতে নেমে কাজ করছেন।’
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলাকে দেড় লক্ষ সদস্য পদ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের তরফ থেকে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই কর্মসূচি চলে। তাতে দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ তিরিশ হাজারের বেশি সদস্যপদ সংগ্রহ করা হয়েছে।‌ বিজেপি নেতাদের কথায়, ২০১৯ সালে মিস কলের মাধ্যমে ৮৭ হাজার সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই সময় নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৯টি বিধানসভা ছিল। তবে বর্তমানে করিমপুর ও নবদ্বীপ বিধানসভা, নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মধ্যে নেই। তাই সাতটি বিধানসভা থেকেই দেড় লক্ষ সদস্যপদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত মোট ১৮০০ বুথ থেকে এই সদস্যপদ সংগ্রহ করা হচ্ছে। 
তবে নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারার জন্য কড়া নির্দেশ শীর্ষ নেতৃত্বের, শুধুমাত্র কর্মীদের দিয়ে নয়, নেতাদেরও মাঠে নেমে কাজ করতে হবে। 
রাজনৈতিক মহলের দাবি, হিন্দু বুথে সহজে সদস্যপদ করা গেলেও হোঁচট খেতে হচ্ছে সংখ্যালঘু বুথগুলিতে। বিশেষ করে চাপড়া, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ ও নাকাশিপাড়ার মতো বিধানসভাগুলিতে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি। লোকসভা নির্বাচনেও তার ফল হাতেনাতে পেয়েছে গেরুয়া শিবির।‌ চাপড়া, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ— এই তিন বিধানসভায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল পদ্ম শিবির। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, ‘বিজেপির সংগঠনে বলতে কিছু নেই‌। লোকসভা নির্বাচনেও সাম্প্রদায়িক তাস খেলার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। কিন্তু মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের মগজধোলাই করতে চাইছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের এতটাই তাড়া যে, জোর করে অনেককে সদস্য করিয়ে নিচ্ছে। ওইসব সংখ্যাতত্ত্বের ধুনো উড়িয়ে ভোটে জিততে পারবে না বিজেপি।’
সম্পর্কিত সংবাদ