নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা রাজগঞ্জ: ‘ভারতের জেলে থাকব। তবু ফিরব না বাংলাদেশে’। বুধবার অবৈধভাবে করতোয়া নদী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ার পর এ কথা বলেন বাংলাদেশের এক কলেজ পড়ুয়া। একই সঙ্গে তিনি পদ্মাপারের কট্টপন্থীদের ভয়ঙ্কর অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরেন। অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চলা ‘ভারত বিদ্বেষী’ প্রচার নিয়ে ক্ষুব্ধ শিলিগুড়ির বাসিন্দারা। পাশাপাশি, শিলিগুড়ি ও মালদহের মতো বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ হতে পারে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও।
Advertisement
জলপাইগুড়ি জেলার উন্মুক্ত সীমান্তগুলির মধ্যে টেকরভিটা অন্যতম। যা রাজগঞ্জ ব্লকের কুকুরযান গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। এদিন ভোরে টেকরভিটা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন বাংলাদেশি কলেজ পড়ুয়া। তাঁর নাম কমল বর্মন (নাম পরিবর্তিত)। তাঁর বয়স ২১। ঠাকুরগাঁও গভর্নমেন্ট কলেজের বিএ প্রথমবর্ষের ছাত্র। বাংলাদেশের রংপুরে তাঁর বাড়ি। তাঁকে ধরে রাজগঞ্জ থানার হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। পুলিস ও বিএসএফ জানিয়েছে, কট্টরপন্থীদের হামলার ভয়ে মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে বের হন ওই বাংলাদেশি যুবক। কখনও হেঁটে, আবার কখনও দৌড়ে সীমান্তে আসেন তিনি। কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বুধবার ভোরে সহজেই বাংলাদেশের মাটি ত্যাগ করে ভারতে প্রবেশ করেন। টেকরভিটায় করতোয়া নদীর সেতুর নীচে আসেন। নদী পার হওয়ার সময় তাঁকে পাকড়াও করেন বিএসএফ জওয়ানরা।
রাজগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, বিএসএফের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন থানার সামনে দাঁড়িয়ে ধৃত বাংলাদেশি যুবক বলেন, গ্রামে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুর করছে মৌলবাদীরা। বাড়িতে চড়াও হয়ে গ্রামছাড়ার ফতোয়া জারি করেছে। তাই বাবা, মাকে ছেড়ে আতঙ্কে ভারতে পালিয়ে এসেছি। আর বাংলাদেশে ফিরব না। ভারতের জেলেই থাকব।
এদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে শিলিগুড়ি বিভিন্ন প্রান্তে চলছে জোর চর্চা। এদিন সকালে শহরের দশরথপল্লির একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় কয়েকজন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু হুঙ্কার দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। আমরা সব নজর রাখছি। বিধান মার্কেট ও হিলকার্ট রোডে ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবরে চোখ রাখছেন। বিধান মার্কেটে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যে ধরনের ভূমিকা নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আর আমাদের সরকার হাত সরিয়ে নিলে ওরা জল না পেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়বে।
ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি ও মালদহে হোটেলে বাংলাদেশিদের রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই পথে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারও হাঁটতে পারে। কোচবিহার জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মৈত্র বলেন, বাংলাদেশিদের রুম দেওয়া হবে কি না সেব্যাপারে শীঘ্রই সংগঠনে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে হোটেলে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই পুলিসকে জানানোর পরামর্শ ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে।
রাজগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, বিএসএফের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন থানার সামনে দাঁড়িয়ে ধৃত বাংলাদেশি যুবক বলেন, গ্রামে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুর করছে মৌলবাদীরা। বাড়িতে চড়াও হয়ে গ্রামছাড়ার ফতোয়া জারি করেছে। তাই বাবা, মাকে ছেড়ে আতঙ্কে ভারতে পালিয়ে এসেছি। আর বাংলাদেশে ফিরব না। ভারতের জেলেই থাকব।
এদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে শিলিগুড়ি বিভিন্ন প্রান্তে চলছে জোর চর্চা। এদিন সকালে শহরের দশরথপল্লির একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় কয়েকজন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু হুঙ্কার দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। আমরা সব নজর রাখছি। বিধান মার্কেট ও হিলকার্ট রোডে ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবরে চোখ রাখছেন। বিধান মার্কেটে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যে ধরনের ভূমিকা নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আর আমাদের সরকার হাত সরিয়ে নিলে ওরা জল না পেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়বে।
ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি ও মালদহে হোটেলে বাংলাদেশিদের রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই পথে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারও হাঁটতে পারে। কোচবিহার জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মৈত্র বলেন, বাংলাদেশিদের রুম দেওয়া হবে কি না সেব্যাপারে শীঘ্রই সংগঠনে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে হোটেলে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই পুলিসকে জানানোর পরামর্শ ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে।



