Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া জেলা সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি নালিশ, ক্ষোভে নেতৃত্বের দ্বারস্থ জেলার কর্মাধক্ষ্যরা

নদীয়া জেলা সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি নালিশ, ক্ষোভে নেতৃত্বের দ্বারস্থ জেলার কর্মাধক্ষ্যরা
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভূরিভূরি অভিযোগ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হলেন কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যরা। চিঠিতে সভাধিপতির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরাই ক্ষোভ উগরে দেন। সবমিলিয়ে আটটি অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন দলের ৩০ জন সদস্য। তাঁর মধ্যে বেশ কয়েকজন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষও রয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। সদস্যদের অভিযোগ, এই সমস্যা নিয়ে সভাধিপতির সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সভাধিপতি পাল্টা বলে দেন- ‘আমার কেউ কিছু করতে পারবে না।’ 
Advertisement
নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান দলনেতা দীপক বসু বলেন, ‘দলকে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে চালানো হচ্ছে। তাতে আমাদের দল কালিমালিপ্ত হচ্ছে। আমরা এভাবে নেত্রীকে কালিমালিপ্ত করা বরদাস্ত করব না। তাই জেলা পরিষদের বিষয়টি নিয়ে আমরা দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি। তাঁদের নজরে বিষয়টি আনা হয়েছে।’ এনিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। তারপর ফের একবার সভাধিপতিকে ফোন করা হয়। তখন তিনি ফোনটি কেটে দেন। 
জেলা পরিষদের সদস্যদের অভিযোগ, সভাধিপতি কর্মাধ্যক্ষদের নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও গঠনমূলক আলোচনা সভা পর্যন্ত করেননি। উন্নয়নমূলক কাজেও জেলা পরিষদের সদস্যদের অন্ধকারে রেখেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সদস্যদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য সভাধিপতিকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেন না। অনিয়ম সহ মোট আটটি অভিযোগ নিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি করা হয়েছে। মাস কয়েক আগেও দলের সদস্যরা বিষয়টি গোপনভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন।  
উল্লেখ্য, জেলা পরিষদের পূর্ববর্তী বোর্ডে তারান্নুম সুলতানা মীর নবদ্বীপে নিজের বাড়ির কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে কৃষি কর্মাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কালীগঞ্জের একটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে তিনি জয়ী হন। তারপর নতুন বোর্ডের সভাধিপতি হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বোর্ড গঠনের কয়েক মাস পর থেকেই জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। নতুন সভাধিপতির একাধিক পদক্ষেপ মানতে পারেননি জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষরা। যা নিয়ে সেই সময় থেকে জেলা পরিষদে শাসকদলে গৃহযুদ্ধের চোরাস্রোত শুরু হয়। 
গতবছর জুন মাসে জেলা পরিষদের জেনারেল বডির মিটিংয়ে সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য আসে। মিটিং চলাকালীন প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বচসায় জড়ান সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষরা। সভা থেকে সভাধিপতির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। যা নিয়েও ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ