Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদী বরাবর হাজারদুয়ারির পাশের রাস্তা বন্ধ দীর্ঘদিন, দুর্ভোগ বাসিন্দা-পর্যটকদের

নদী বরাবর হাজারদুয়ারির পাশের রাস্তা বন্ধ দীর্ঘদিন, দুর্ভোগ বাসিন্দা-পর্যটকদের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে ভাগীরথী নদী বরাবর হাজারদুয়ারি মিউজিয়ামের পাশের রাস্তা। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে মুর্শিদাবাদ ঘুরতে আসা পর্যটকরা। স্বাভাবিকভাবেই মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের অনড় মনোভাবে যেমন ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের, তেমনি বাইরে থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অবশ্য এই বিষয়ে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রায়গঞ্জ শাখার সুপারিন্টেনডেন্ট হরি ওম শরণ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে কোনও নির্দেশ না এলে ওই রাস্তা উন্মুক্ত করা যাবে না। 
Advertisement
হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়ামের পশ্চিম দিকে অর্থাৎ ভাগীরথী নদীর পাড় বরাবর একটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটির ইমামবাড়া হয়ে কেল্লা নিজামতে চলে গিয়েছে। হাজারদুয়ারির প্রধান বা মূল গেট অর্থাৎ প্রাসাদের পূর্বদিকের রাস্তা জনবহুল হওয়ায় শহরের মানুষজন এবং নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউট, গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড বালিকা বিদ্যালয় ও লালবাগ সিঙ্ঘী স্কুলের পড়ুয়ারা ওই পথ দিয়ে চলাফেরা করত। পর্যটকরাও ওই রাস্তা ব্যবহার করে ইমামবাড়ার পিছন দিয়ে সহজেই কেল্লা নিজামত পৌঁছতে পারতেন। আবার ওই রাস্তা বরাবর বেশ কিছু দোকানপাটও রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পুরসভার সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই আচমকা ওই রাস্তার দুই মুখে লোহার ব্যারিকেড দিয়েছে হাজারদুয়ারি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে গতিরোধ করা হয়েছে স্কুল পড়ুয়া, সাধারণ মানুষ এবং পর্যটকদের। গত বছর আগস্ট মাসে হাজারদুয়ারি কর্তৃপক্ষের এই হঠাকারী সিদ্ধান্তের ফলে লাটে ওঠে বেশ কিছু ব্যবসায়ীর জীবিকা। প্রতিবাদে এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, বিষয়টি বারবার হাজারদুয়ারি কর্তৃপক্ষের নজরে আনলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এই বিষয়ে মুর্শিদাবাদ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি আলম মির্জা বলেন, হাজারদুয়ারি কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের কোনও রকম পাত্তা না দিয়ে নিজেদের তৈরি করা নিয়মে ইচ্ছে মতো কাজ করেন। এ ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মঞ্চের অন্যতম সদস্য মনু শেখ বলেন,  এই সিদ্ধান্তের ফলে হলুদ মসজিদে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, সাধারণের ব্যবহারের জন্য নবাবি আমল থেকে উন্মুক্ত ছিল ওই রাস্তা। সেই তথ্য বিভিন্ন বই ও নকশাতে উল্লেখ রয়েছে। আজও রাস্তাটি মুর্শিদাবাদ এস্টেটের নামে রেকর্ড আছে। ফলে আমাদের দাবি, রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
সম্পর্কিত সংবাদ