নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের ভোটে পুর-যুদ্ধ! বিরোধী শিবিরের সব পক্ষকে নিয়েই গুঞ্জন কে, কার কাছে আসছে। পুরভোটের আগে দিন যত এগোচ্ছে, তত আসন-সমন্বয়ের প্রসঙ্গ চর্চার আলোকবর্তিকায় ঘূর্ণায়মান হচ্ছে। উৎসব পর্ব মিটলেই পুরভোটের দামাম পুরোমাত্রায় বেজে যাবে। তখন আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে একা লড়াই নাকি হাত ধরাধরি করে ভোট বৈতরণি পেরনো।
দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধীর যৌথ লড়াই রাজনীতির কারবারিদের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। তারই প্রতিচ্ছবি সামনে আসছে পশ্চিমবঙ্গেও। আসন্ন পুরভোটে মমতা তৃণমূল এবং প্রদেশ কংগ্রেস কাছাকাছি আসছে। এমন সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নন্দীগ্রাম মডেল হতে পারে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে মমতা তৃণমূল প্রার্থী দিলে, তাকে সমর্থন দিতে পারে প্রদেশ কংগ্রেস। আবার কোথাও কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারে মমতা তৃণমূল। এই ফরমুলায় লড়াই করলে বেশি ওয়ার্ডে জয় সম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে মমতা এবং শুভঙ্কর শিবিরের মধ্যে আনুষ্ঠানিভাবে এখনো পর্যম্ত কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু আলোচনা যে হবে না, সেই কথাও উড়িয়ে দেওয়ার নয়। কেননা, কুণাল ঘোষ এবং শুভঙ্কর সরকার, দুজনের গলাতেই শোনা গিয়েছে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে সময়ের দাবির কথা। শুভঙ্করের বক্তব্য, দলের কর্মীদের মতামত এবং হাইকমান্ডের নির্দেশ নিয়েই আমরা এগোব। কুণালের কথায়, দেশে ইন্ডিয়া ব্লক থাকে, তাহলে কলকাতাতেও ইন্ডিয়া ব্লকের প্রতিফলন থাকবে।
অর্থাৎ আগামী দিনে মমতা তৃণমূল এবং প্রদেশ কতটা কাছাকাছি আসে, কতগুলি ওয়ার্ডে প্রার্থী কেন্দ্রিক সমঝোতা হয়, সেটাই লক্ষণীয়। আবার বিরোধী শিবিরের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং এনসিপিআই’কে নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যে এনসিপিআই শামিল হয়েছে বিজেপির এনডিএ শিবিরে। পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে এনসিপিআইয়ের সমঝোতা নিয়ে চর্চা চলছে। সেই আবহে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়েও গুঞ্জন, তারাও কি বিজেপির সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটবে। ঋতব্রত শিবিরকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা তৃণমূল বলেছে, ওরা তো বিজেপির বি-টিম। পুরসভার সব ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী দেওয়ার লোক নেই। তাই ভয় দেখিয়ে অন্যদের নিজেদের দিকে নিতে চাইছে। যদিও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অরূপ রায় বলেন, এনসিপিআই আলাদা পার্টি। ওরা বিজেপির শরিক। কিন্তু আমরা পুরভোটে একাই লড়াই করব। ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য, জল্পনা-কল্পনা অনেক থাকে। কিন্তু আমরা একাই লড়ব। মানুষ ঠিক করবেন কলকাতা পুরসভা কার হাতে থাকবে। তবে এই আবহে বিধায়ক মদন মিত্রের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, প্রতীক ছাড়া মমতা তৃণমূলের আল্টিমেট নেত্রী!



