নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও কিশোর-যুবকদের মধ্যে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের প্রবণতা। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নেশার ঠেকে কমবয়সিদের আনাগোনা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে গিয়ে নেশামুক্তির প্রচার করবে স্কুল-কলেজের এনসিসি এবং এনএসএস-এর পড়ুয়ারা। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুরের শোভারানি মেমোরিয়াল কলেজে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে মনস্তত্ত্ব ও আয়ুর্বেদ নিয়ে বক্তব্য রাখেন পদ্মশ্রী প্রাপক আয়ারল্যান্ডের অধ্যাপক রটজার কার্টেনহর্স্ট।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ প্রকল্পের আওতায় কলেজের শারীরশিক্ষা ও এনসিসি-এনএসএস ইউনিটের উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে কলেজের বেশ কিছু অধ্যাপক ও শতাধিক পড়ুয়া। কলেজের ১৫ জন এনসিসি ক্যাডেট ও ২০ জন এনএসএস ক্যাডেটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই পড়ুয়ারা গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নেশামুক্তির প্রচার করবে। তারাই স্কুলের পড়ুয়াদের সচেতনতার পাঠ দেবে। এমনকী পুলিসের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক কর্মসূচিতেও অংশ নেবে তারা। স্কুলছুট হয়ে কেউ কেউ নেশা কিংবা বিভিন্ন দুষ্কর্মে যুক্ত হয়ে পড়ছে কি না, তা লক্ষ্য রাখবে এই ক্যাডেটরা। জেলার ইউথ অফিসার অরুণিমা বলেন, ‘শহরাঞ্চলে ড্রাগের নেশা বন্ধ করার বিষয়ে যতটা প্রচার চলে, গ্রামীণ এলাকায় ততটা হয় না। নেশামুক্ত সমাজ গড়তে এনসিসি, এনএসএস ক্যাডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
নেশামুক্তির পর আয়ুর্বেদ ও যোগার মধ্যে দিয়ে কীভাবে কাউকে সুস্থতার পথে নিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন রটজার কার্টেনহর্স্ট। তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে একটি কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপক। ১৯৮৬ সাল থেকে সেই কলেজে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে সংস্কৃত পড়ানো হয়। ভারতীয় বেদ-বেদান্ত, পুরাণ ও সেদেশে ভারতীয় দর্শনের প্রচার করেন কার্টেনহর্স্ট। সেইজন্য ২০২২ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়। কলেজের অধ্যাপকদের কথায়, ‘শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। সমাজের অন্ধকার দূর করতে হলে ওদের কাঁধেই দায়িত্ব দিতে হবে।’ হাওড়া গ্রামীণ পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকায় যেভাবে নেশার ঠেকে কমবয়সিদের ভিড় বাড়ছে, তাতে শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। নেশামুক্তি অভিযানে পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’