বাড়ির খুদে সদস্যটিকে নিয়ে সকলের চিন্তা। তার শরীর বিগড়লেই বড়দের নাওয়া-খাওয়া শিকেয় ওঠে। একটু সচেতন হলেই এড়ানো সম্ভব বড়সড় বিপদ। এই পর্বে শিশুদের কানে ব্যথার সমস্যা নিয়ে বললেন রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান (শিশুমঙ্গল) হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ। শুনলেন অয়নকুমার দত্ত।
Advertisement
কানে ব্যথার কারণ
বাচ্চাদের কানে ব্যথা নিয়ে প্রায়শই অভিভাবকদের নাজেহাল হতে হয়। নানা কারণে কানে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সম্ভাব্য যে কারণগুলি রয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সমস্যাটি নিজেই সৃষ্টি করেছেন রোগী অথবা রোগীর বাড়ির লোক।
বাচ্চাদের কানে যদি ময়লা জমে, তাহলে কান সুড়সুড় করে। এক্ষেত্রে অনেক সময় বাচ্চা নিজেই কাঠি দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। অথবা পেন্সিল দিয়ে খোঁচায়। ফলে কানের মধ্যে ফোঁড়া হয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় বাড়ির লোকজনই বাচ্চার কানের খোল পরিষ্কার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইয়ার বাড দিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে যদি খোঁচা লেগে যায়, তাহলেও ফোঁড়া হতে পারে।
শুধু তাই নয় কানে খোঁচা লাগলে কেটে গিয়ে রক্তপাত পর্যন্ত হতে পারে। ইয়ার বার্ডস বা কাঠিটি কোনওভাবে জোরে ভিতরে চলে গেলে কানের পর্দায় আঘাত লেগে বড়সড় ক্ষতি হতে পারে।
কানে জল ঢুকে ফাংগাল ইনফেকশন থেকে ব্যথা হতে পারে।
চোট আঘাত লেগেও বাচ্চার কানে ব্যথা হতে পারে।
এই কারণগুলি ছাড়াও বাচ্চাদের কান ব্যথার অন্যতম কারণ ঠান্ডা লাগা। ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। সেই সর্দি কানের পর্দার পিছনে জমলে কানে ব্যথা হয়।
এছাড়াও দাঁতের ব্যথা থেকে অনেক সময় কানে ব্যথা ছড়াতে পারে। অথবা মুখের ভিতরে ভাইরাল বা অন্য কোনও কারণে ফোঁড়া বা আলসার হলেও কানে ব্যথা শুরু হতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়
নিজেরা কখনওই বাচ্চার কান পরিষ্কার করতে যাবেন না। এমনকী, ইয়ার বাড-সহ কান পরিষ্কারের যেসব উপকরণ বাজারে বিক্রি হয়, তা ব্যবহার করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
তাহলে কি বাচ্চার কান পরিষ্কার করবেনই না?
করবেন। স্নান করার সময় তোয়ালে বা গামছা দিয়ে বাইরে থেকে যতটুকু কান পরিষ্কার করে দেওয়া সম্ভব, সেটাই যথেষ্ট। তার বেশি কিছু করার প্রয়োজন হয় না। তারপরও যদি বাচ্চার কোনও অস্বস্তি বা সমস্যা থাকে, তখন একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
কানের ভিতরে ময়লা যদি খুব শক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইএনটি স্পেশালিস্টরা বিষয়টি বুঝে ড্রপ দেন। এতে ময়লা নরম হয়ে যায় এবং ডাক্তারবাবুই পরিষ্কার করে দেন। কিন্তু কখনওই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অভিভাবকরা বাচ্চার কানে ড্রপ দিতে যাবেন না। কী কারণে বাচ্চার কানে ব্যথা হচ্ছে, সেটা বুঝে ডাক্তারবাবুরা চিকিৎসা করেন। কারণের রকমফেরে চিকিৎসাও ভিন্ন হয়। তাই কানে ব্যথা মানেই বাজারচলতি একটা ড্রপ দোকান থেকে কিনে ব্যবহার করা নয়।
সর্দির জন্য কানে ব্যথা হলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
মাঝরাতে কানে ব্যথা
অনেক সময় দেখা যায়, মাঝরাতে কানে ব্যথা নিয়ে বাচ্চা কান্না জুড়ে দিল। হয়তো সেই সময় হাতের কাছে ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। তখন অভিভাবকরা কী করবেন? যাঁদের ঘরে বাচ্চা রয়েছে, সকলেই জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল কিনে রাখেন। সেই প্যারাসিটমল ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজে খাওয়াতে পারেন। তাতে বাচ্চা সাময়িক ব্যথা থেকে রেহাই পাবে। সেইসঙ্গে বাইরে থেকে শুকনো গরম সেঁক কানে দিতে পারেন। এভাবে রাতটুকু কাটিয়ে দেওয়া যায়। তার পরের দিনই একজন ইএনটি স্পেশালিস্টকে দেখাতে হবে। দু’টি বিষয়ে সচেতন হতেই হবে— নিজেরা কানের ভিতর পরিষ্কার করা উচিত নয় এবং কখনওই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ড্রপ দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
বাচ্চাদের কানে ব্যথা নিয়ে প্রায়শই অভিভাবকদের নাজেহাল হতে হয়। নানা কারণে কানে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সম্ভাব্য যে কারণগুলি রয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সমস্যাটি নিজেই সৃষ্টি করেছেন রোগী অথবা রোগীর বাড়ির লোক।
বাচ্চাদের কানে যদি ময়লা জমে, তাহলে কান সুড়সুড় করে। এক্ষেত্রে অনেক সময় বাচ্চা নিজেই কাঠি দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। অথবা পেন্সিল দিয়ে খোঁচায়। ফলে কানের মধ্যে ফোঁড়া হয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় বাড়ির লোকজনই বাচ্চার কানের খোল পরিষ্কার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইয়ার বাড দিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে যদি খোঁচা লেগে যায়, তাহলেও ফোঁড়া হতে পারে।
শুধু তাই নয় কানে খোঁচা লাগলে কেটে গিয়ে রক্তপাত পর্যন্ত হতে পারে। ইয়ার বার্ডস বা কাঠিটি কোনওভাবে জোরে ভিতরে চলে গেলে কানের পর্দায় আঘাত লেগে বড়সড় ক্ষতি হতে পারে।
কানে জল ঢুকে ফাংগাল ইনফেকশন থেকে ব্যথা হতে পারে।
চোট আঘাত লেগেও বাচ্চার কানে ব্যথা হতে পারে।
এই কারণগুলি ছাড়াও বাচ্চাদের কান ব্যথার অন্যতম কারণ ঠান্ডা লাগা। ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। সেই সর্দি কানের পর্দার পিছনে জমলে কানে ব্যথা হয়।
এছাড়াও দাঁতের ব্যথা থেকে অনেক সময় কানে ব্যথা ছড়াতে পারে। অথবা মুখের ভিতরে ভাইরাল বা অন্য কোনও কারণে ফোঁড়া বা আলসার হলেও কানে ব্যথা শুরু হতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়
নিজেরা কখনওই বাচ্চার কান পরিষ্কার করতে যাবেন না। এমনকী, ইয়ার বাড-সহ কান পরিষ্কারের যেসব উপকরণ বাজারে বিক্রি হয়, তা ব্যবহার করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
তাহলে কি বাচ্চার কান পরিষ্কার করবেনই না?
করবেন। স্নান করার সময় তোয়ালে বা গামছা দিয়ে বাইরে থেকে যতটুকু কান পরিষ্কার করে দেওয়া সম্ভব, সেটাই যথেষ্ট। তার বেশি কিছু করার প্রয়োজন হয় না। তারপরও যদি বাচ্চার কোনও অস্বস্তি বা সমস্যা থাকে, তখন একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
কানের ভিতরে ময়লা যদি খুব শক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইএনটি স্পেশালিস্টরা বিষয়টি বুঝে ড্রপ দেন। এতে ময়লা নরম হয়ে যায় এবং ডাক্তারবাবুই পরিষ্কার করে দেন। কিন্তু কখনওই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অভিভাবকরা বাচ্চার কানে ড্রপ দিতে যাবেন না। কী কারণে বাচ্চার কানে ব্যথা হচ্ছে, সেটা বুঝে ডাক্তারবাবুরা চিকিৎসা করেন। কারণের রকমফেরে চিকিৎসাও ভিন্ন হয়। তাই কানে ব্যথা মানেই বাজারচলতি একটা ড্রপ দোকান থেকে কিনে ব্যবহার করা নয়।
সর্দির জন্য কানে ব্যথা হলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
মাঝরাতে কানে ব্যথা
অনেক সময় দেখা যায়, মাঝরাতে কানে ব্যথা নিয়ে বাচ্চা কান্না জুড়ে দিল। হয়তো সেই সময় হাতের কাছে ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। তখন অভিভাবকরা কী করবেন? যাঁদের ঘরে বাচ্চা রয়েছে, সকলেই জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল কিনে রাখেন। সেই প্যারাসিটমল ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজে খাওয়াতে পারেন। তাতে বাচ্চা সাময়িক ব্যথা থেকে রেহাই পাবে। সেইসঙ্গে বাইরে থেকে শুকনো গরম সেঁক কানে দিতে পারেন। এভাবে রাতটুকু কাটিয়ে দেওয়া যায়। তার পরের দিনই একজন ইএনটি স্পেশালিস্টকে দেখাতে হবে। দু’টি বিষয়ে সচেতন হতেই হবে— নিজেরা কানের ভিতর পরিষ্কার করা উচিত নয় এবং কখনওই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ড্রপ দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।



