Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

  কম দামে স্কুলের জমি বিক্রির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

 
কম দামে স্কুলের জমি বিক্রির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরির জন্য নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন তেওয়ারি শিক্ষা নিকেতনের সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম দামে স্কুলের সম্পত্তি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই মর্মে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে তিন বিঘা জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আরও বেশকিছু জমি বিক্রি করা হবে। এই মুহূর্তে তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, স্কুলের জমি বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রির অভিযোগ এসেছে। পুলিস ওই ঘটনার তদন্ত করবে।
Advertisement
উল্লেখ্য, দু’ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মাল্টি সেক্টরাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এমএসডিপি) ছ’ কোটি টাকায় দু’টি ইন্টিগ্রেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগরে ওই স্কুল তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত হলেও সংযোগকারী রাস্তায় সাঁকো নিয়ে জট থাকায় সেখানে প্রজেক্ট বাতিল করা হয়। এরপর হরিপুরে কৃষক বাজারের কাছে কৃষিদপ্তরের জমি পরিদর্শন করা হয়। কিন্তু, পছন্দমতো জায়গার অভাবে ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আটকে রয়েছে। অথচ, পাঁশকুড়ায় অপর ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রাম বিএমটি স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি নিয়ে আগ্রহ দেখায়। তারা নিজেদের জায়গায় ওই স্কুল গড়তে চায় বলে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। এরপর স্কুল শিক্ষাদপ্তর থেকে জমি বিক্রির অনুমতি আদায় করে বাহাদুরপুর, নন্দীগ্রাম সহ বিভিন্ন মৌজায় স্কুলের জমি বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ, জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম দামে জমি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আর এনিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ধান্যখোলা গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল খান এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি), বিডিও, ব্লক ভূমি অফিসার এবং থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন।
আমিরুল সাহেব বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরির নাম করে জলের দরে জমি বিক্রি করা হচ্ছে। জমি বিক্রির প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ নয়। তাই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রধান শিক্ষক এক বছর বাদে অবসর নেবেন। তার আগে জমি বিক্রির নামে যথেচ্ছ অনিয়ম হলে তার দায় কে নেবে? আমরা চাই, প্রশাসন গোটা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক।
নন্দীগ্রাম বিএমটি শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিতকুমার শাসমল বলেন, স্কুলের অনেক জমি বর্গাদারদের দখলে চলে গিয়েছিল। আমরা বর্গাদার মুক্ত করে সেইসব জমি বিক্রি করছি। এজন্য স্কুল শিক্ষাদপ্তর থেকে অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। জমি বিক্রির টাকায় আমরা তাজপুর মৌজায় পানপোস্তায় প্রায় আট একর জমি কিনব। সেই জমির উপর আমরা এমএসডিপি প্রজেক্টের ইন্টিগ্রেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়তে চাই। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। জমির সংস্থান হলে প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে আমরা জেলাশাসকের অফিসে আবেদন জানাব। বর্গাদার মুক্ত করা জমি বিক্রি করতে গিয়ে কোথাও প্রকৃত মূল্যের চেয়ে একটু কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে, জমি বিক্রির পুরো অর্থ স্কুলের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। এনিয়ে কোনও দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম নেই।
জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লব সরকার বলেন, নন্দীগ্রাম বিএমটি স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নিয়ে একবার প্রস্তাব দিয়েছিল। ওদের জমির সংস্থান থাকলে তারপর আবেদন জানাতে পারবে। তখন অনুমোদন দেওয়ার প্রসঙ্গ আসবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ