প্রয়াগরাজ: মধ্যরাতে মহাবিপর্যয়! স্বজনহারাদের বুক ফাটা কান্না-হাহাকারে কান পাতা দায় ত্রিবেণী সঙ্গমে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শয়ে শয়ে রঙিন কাপড়-জামা, জুতো, হুইলচেয়ার, কম্বল, ব্যাগের স্তূপ। দলছুট সঙ্গী, পরিজনদের খোঁজে পাগলের মতো এ ক্যাম্প থেকে ও ক্যাম্পে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। মেলাস্থলে বড় বড় থামে লাগানো চোঙ থেকে ঘোষণা ভেসে আসতেই, সেদিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন। তাঁর পরিচিতের নাম বলা হচ্ছে না তো! নদীতটের বালিতে জায়গায় জায়গায় স্পষ্ট ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। যদিও সেসব ধুয়েমুছে সাফ করে পুণ্যস্নানে (অমৃত স্নানে) ফিরতে বেশি সময় নিল না যোগী সরকার। প্রশাসনিক তৎপরতায় কুম্ভমেলা থেকে মুছে পেল বিপর্যয়ের চিহ্ন। আকাশ থেকে চলল পুষ্পবৃষ্টি। দল বেঁধে শাহি স্নান সারলেন নাগা সাধুরা। সনাতনী স্লোগানে গমগম করে উঠল গোটা এলাকা। অমৃত স্নান করতে ঘাটে পৌঁছলেন যোগগুরু বাবা রামদেব, অভিনেত্রী হেমা মালিনী, কুস্তিগির গ্রেট খালির মতো ‘ভিভিআইপি’রা। বিষাদের সুর, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে সরিয়ে কয়েকঘণ্টার মধ্যেই আবার ত্রিবেণী ফিরল সেই ত্রিবেণীতে।
Advertisement
মেলাপ্রাঙ্গণেই কিছু দূর অন্তর বসানো উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাসিমুখের ঢাউস ছবি। সকাল থেকেই সেদিকে তাকিয়ে উপস্থিত পুণ্যার্থীরা বলছেন, ‘এই অবস্থায় বড় বেমানান লাগছে যোগীজির এই ছবি। কোথায় যেন তাল কেটে গিয়েছে।’ একথা উদ্যোক্তাদের কানে পৌঁছতে বেশি দেরি হয়নি। বিপর্যয়ের ব্যর্থতা মুছতে তড়িঘড়ি মাঠে নেমে পড়ে প্রশাসন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃতদেহের পাশাপাশি কাপড়, জুতো, ব্যাগ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তৎপরতা দেখে এক পুণ্যার্থীর গলায় একরাশ আফসোস। বললেন, ‘ভিড় নিয়্ন্ত্রণে এই সক্রিয়তা থাকলে এই বিপদ ঘটত না।’ এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, দ্রুত এলাকা খালি করে কাজে নেমে পড়েন পুলিস, স্বেচ্ছাসেবক, এমনকী সেনা-জওয়ানরাও। আকাশ থেকে নেমে এল লাল গোলাপের পাপড়িও।
মধ্যরাতে বিপর্যয়ের পর অমৃত স্নান স্থগিত রেখেছিল আখড়াগুলি। মেলাপ্রাঙ্গণ ছন্দে ফিরতেই বুধবার দুপুর আড়াইটে থেকে তা শুরু হয়। তাদের মিছিলকেও ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় মেলা কর্তৃপক্ষ। স্নান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাবধানী বার্তার পর সাধারণ পুণ্যার্থীরাও স্নান করেন। সরকারি হিসেবে, প্রতিটি ঘাটে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী অমৃতস্নান সেরেছেন। ঘটনাস্থলে পাশেই ফেরিওয়ালাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দরদাম করে সেখানে দেদার কেনাকাটা চলেছে। বিভিন্ন আখড়া ও সংগঠনের তরফে প্রসাদেরও ব্যবস্থা হয়েছিল। প্রতিটির সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে যোগগুরু বাবা রামদেব ও হেমা মালিনীর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রামদেব ডুব দিয়ে উঠতেই অন্য এক সাধুর মুখে আটকে যায় তাঁর চুল। তা দেখে হাসতে থাকেন হেমা। চারপাশে ‘ফিল গুড’ হাওয়ার তৈরিতে চেষ্টার কোনও কসুর করেনি প্রশাসনও। রেল পরিষেবা অব্যাহত ছিল। দিনভর মেলাপ্রাঙ্গণে মাইকে ভেসে এসেছে কুম্ভের মাহাত্ম্য, অমৃত স্নানের নিয়মাবিধি, পুণ্যার্থীদের জন্য সাবধানবাণী।
মধ্যরাতে বিপর্যয়ের পর অমৃত স্নান স্থগিত রেখেছিল আখড়াগুলি। মেলাপ্রাঙ্গণ ছন্দে ফিরতেই বুধবার দুপুর আড়াইটে থেকে তা শুরু হয়। তাদের মিছিলকেও ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় মেলা কর্তৃপক্ষ। স্নান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাবধানী বার্তার পর সাধারণ পুণ্যার্থীরাও স্নান করেন। সরকারি হিসেবে, প্রতিটি ঘাটে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী অমৃতস্নান সেরেছেন। ঘটনাস্থলে পাশেই ফেরিওয়ালাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দরদাম করে সেখানে দেদার কেনাকাটা চলেছে। বিভিন্ন আখড়া ও সংগঠনের তরফে প্রসাদেরও ব্যবস্থা হয়েছিল। প্রতিটির সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে যোগগুরু বাবা রামদেব ও হেমা মালিনীর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রামদেব ডুব দিয়ে উঠতেই অন্য এক সাধুর মুখে আটকে যায় তাঁর চুল। তা দেখে হাসতে থাকেন হেমা। চারপাশে ‘ফিল গুড’ হাওয়ার তৈরিতে চেষ্টার কোনও কসুর করেনি প্রশাসনও। রেল পরিষেবা অব্যাহত ছিল। দিনভর মেলাপ্রাঙ্গণে মাইকে ভেসে এসেছে কুম্ভের মাহাত্ম্য, অমৃত স্নানের নিয়মাবিধি, পুণ্যার্থীদের জন্য সাবধানবাণী।



