Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবান্ন উত্সব পালনে অনীহা গ্রামবাংলায়, আক্ষেপ কৃষকদেরই

নবান্ন উত্সব পালনে অনীহা গ্রামবাংলায়, আক্ষেপ কৃষকদেরই
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: উত্তরবঙ্গের বুক থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব। অথচ, এক সময় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি চাষির ঘরে উদযাপিত হতো নবান্ন। এখন সেই উত্সবই ধুকে ধুকে চলছে।
Advertisement
কার্তিক এবং অগ্রহায়ণ মাসজুড়ে উত্তরের কৃষকরা ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন। কিন্তু, সময়ের ধারাপাতে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে বংশপরম্পরায় চলে আসা নবান্ন উৎসব। আমন ধান কাটার পর এখন চলছে ফসল ঘরে তোলার পালা। সেই নতুন ধান থেকে প্রথম যে চাল পাওয়া যায়, তা দিয়ে নবান্ন উৎসব পালনের রীতি রয়েছে। প্রথম ধান থেকে প্রস্তুত করা চালের রান্না করা খাবার পুজো-অর্চনা করে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-পরিজনদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়। বছর কয়েক আগেও জামালদহ, উছলপুকুরি, রানিরহাট সহ নানা এলাকায় নবান্ন উৎসব বেশ সমাদৃত ছিল। এখন আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও ব্যস্ততার কারণে নবান্ন উৎসবের কদর কমে গিয়েছে। ঐতিহ্য পালনে অনীহার ছবি উত্তরবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই। এখন সেভাবে আর নবান্ন পালিত হয় না বললেই চলে। 
তবে ব্যতিক্রমও আছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় আজও স্বমহিমায় নবান্নের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। সীমান্তঘেঁষা জামালদহের শালবাড়ি এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে এবছর অগ্রহায়ণে নবান্নের আয়োজন করা হবে।  এলাকার বাসিন্দারা আজও নিয়ম-নিষ্ঠা সহকারে নবান্ন উৎসব পালন করছেন। এলাকার বাসিন্দা ধনঞ্জয় রায় বলেন, আবহমানকাল ধরে তাঁদের পরিবারে এই উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। বিশ্বাস অনুসারে, নতুন ধান উৎপাদনের সময় পরিবারের কাছ থেকে পিতৃপুরুষ অন্ন প্রার্থনা করেন। সেই বিশ্বাসের কারণে নবান্নে নতুন ধানের প্রথম রান্না করা খাবার পূর্বপুরুষের উদ্দেশে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এছাড়াও নবান্নে হিন্দুরা পার্বন-বিধি অনুসারে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানও করে থাকেন। লৌকিক বিশ্বাস মতে, রান্না করা খাবার কাকের মাধ্যমে মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। সেজন্য নবান্ন উৎসবে নতুন ধানের রান্না করা খাবার কাকের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ