Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেফার কমলেও কর্নিয়া গ্রাফ্টিং ও আইব্যাঙ্কে ধাক্কা খাচ্ছে এনবিএমসি

রেফার কমলেও কর্নিয়া গ্রাফ্টিং ও আইব্যাঙ্কে ধাক্কা খাচ্ছে এনবিএমসি
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সমৃদ্ধ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চোখের চিকিৎসায় রেফারের সংখ্যা কমছে। রেটিনা সহ চোখের বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা সাফল্যের সঙ্গে এখানে হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালে চক্ষুরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ নজরুল ইসলাম। 

Advertisement

তিনি বলেন, অকুলার আল্ট্রাসনোগ্রাফি-বিএ স্ক্যান সহ দুটি অত্যাধুনিকসরঞ্জাম আমরা পেয়েছি। এই দুই মেশিনের জন্য রেটিনার ১০ স্তরের স্ক্যান ও পোস্টেরিয়ার সেগমেন্ট মেডিক্যাল রেটিনা চিকিৎসা এখানে সম্ভব হচ্ছে। ফলে রোগী রেফার কমে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামীতে রেফার শূন্য করা।
কিন্তু এই সাফল্যের মাঝে ধাক্কা খাচ্ছে আই ব্যাঙ্ক ও কর্নিয়া গ্রাফ্টিং। প্রায় দেড় বছর হতে চলল এখানে কর্নিয়া গ্রাফ্টিং ও আই ব্যাঙ্ক চালু হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি কর্নিয়া গ্রাফ্টিং হয়েছে। আই ব্যাঙ্ক কর্ণিয়া শূন্য হয়ে রয়েছে। ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, মরনোত্তর চক্ষুদানে এখানকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। এই সমস্যা কাটিয়ে আইব্যাঙ্ক ও কর্নিয়া গ্রাফ্টিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য কাউন্সেলার থাকা আবশ্যিক। কিন্তু আমরা এখনও কাউন্সেলার পাইনি। ফলে কর্নিয়া সংগ্রহ সরা যাচ্ছে না। 
জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ প্রকল্পে ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইব্যাঙ্ক ও কর্নিয়া গ্রাফ্টিং চালু হয়েছিল কোনও কাউন্সেলার নিয়োগ না করে। উত্তরবঙ্গে কোনও সরকারি হাসপাতালে যা প্রথম। কিন্তু কাউন্সেলার না ধাকায় কয়েক মাসের মধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়। ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গ্রামের মানুষই বেশি আসেন। তাদের মধ্যে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার সম্পর্কে সচেতন করা সবার আগে দরকার। একজন রোগী ভর্তি হওয়ার পর এই কাজটি করেন কাউন্সেলার।
এই প্রকল্প চালুর সময় কাউন্সেলারের অভাব পূরণের জন্য হাসপাতালের নার্সদের উপর নির্ভর করা হয়েছিল। কিন্তু, এই কাজ করতে গিয়ে নার্সদের এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। হাসপাতালের এক নার্স বলেন, রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাদের মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার নিয়ে বোঝাতে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। মৃত্যুর পর চোখ দানের কথা বলতেই রোগী ও তাদের বাড়ির লোকের প্রশ্ন করেন, কেন, আমি কি আর বাঁচব না। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশা শেষ? এ ধরনের প্রশ্ন শোনার পর রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ও যথেষ্ট অস্বস্তিকর। তাই আমরা আর এই সচেতনতা প্রচার করতে পারিনি। 
জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ প্রকল্পে দার্জিলিং জেলা নোডাল অফিসার জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ-২ আনোয়ার হোসেন বলেন, ওবিসি সার্টিফিকেট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোনও নিয়োগ করা যাচ্ছে না। তাই আমরা কাউন্সেলার পেয়েও নিয়োগ করতে পারছি না। এই জটিলতা না কাটা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ