Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এনবিএমসি: সাফাই অভিযানের নামে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কংক্রিটের বেঞ্চ, বিপাকে পরিজনরা

এনবিএমসি: সাফাই অভিযানের নামে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কংক্রিটের বেঞ্চ, বিপাকে পরিজনরা
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বুধবার জঞ্জাল সাফাই অভিযানে এসে ভেঙে দেওয়া হল রোগীর বাড়ির লোকেদের বসার বেঞ্চগুলি। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাইব্রিড সিসিইউ’র সামনে খোলা আকাশের নীচে থাকা সিমেন্টের বেঞ্চগুলি ভাঙা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

সম্প্রতি নতুন করে হাইব্রিড সিসিইউ চালু হয় রোগীর পরিবারের প্রতীক্ষালয় ছাড়াই। রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সারাক্ষণ রোগীর পরিবারের অন্তত একজনকে বাইরে থাকতে হবে। সেইমতো পরিবারের লোকেরা পালা করে সারাক্ষণ থাকেন। সেক্ষেত্রে খোলা আকাশের নীচে সিমেন্টের অস্থায়ী বেঞ্চগুলিই ছিল ভরসা। কিন্তু বৃষ্টি পড়লে তখন বারান্দায় উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই অব্যবস্থা নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নীরব থেকেছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। নিরুপায় হয়ে কষ্ট সহ্য করে হাইব্রিড সিসিইউ’তে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনরা ওই বেঞ্চগুলিতেই বসে থাকতেন, কখন ডাক পড়ে সেই প্রতীক্ষায়। অনেকে আবার ক্লান্তিতে বেঞ্চের উপর রাতে ঘুমোতেন। 
বুধবার সাফাই অভিযান শুরু হলে আর্থমুভার দিয়ে সিমেন্টের সব বেঞ্চ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রোগীর পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, এখন তাঁরা কোথায় বসবেন? কিন্তু এ ব্যাপারে আশ্চর্যজনকভাবে উদাসীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাইব্রিড সিসিইউ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডের রোগীর পরিবারের লোকেদের থাকাটা আবশ্যিক এবং সবসময় তাঁরা উদ্বেগে থাকেন, একথা মেনে নিলেও এখন তাঁরা কোথায় বসবেন সেই উত্তর দেননি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। বরং তিনি সিমেন্টের বেঞ্চ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অন্যায় কিছু দেখছেন না। এমএসভিপি বলেন, রোগীর পরিবারের লোকেরা বেঞ্চ দখল করে রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোতেন। রোগীর পরিবারে একজন করে লোককে থাকতে বলা হয়। সেখানে চার- পাঁচজন করে থাকেন, তাই সমস্যা। একজন করে থাকলে ব্যবস্থা করে দেব। 
এমএসভিপি’র এই বক্তব্যে সকলেই বিস্মিত। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, সিসিইউ’তে সঙ্কটজনক রোগীরাই থাকেন। তাই পরিবারের একাধিক লোক থাকাটা অন্যায় নয়। এদিকে, রোগীর পরিবারের লোকেদের প্রশ্ন, মশারি টাঙিয়ে রাতে ঘুমোনো যদি অপরাধ হয় তাহলে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রতীক্ষালয়, করিডরে বহিরাগতরা দিনের পর দিন রাতে বিছানা পেতে ঘুমোচ্ছেন কেন। সেদিকে নজর দিক কর্তৃপক্ষ। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ