Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবমী তিথিতে তারাপীঠে মা তারাকে পুজো করা হয় কুমারী জগদ্ধাত্রী রূপে

নবমী তিথিতে তারাপীঠে মা তারাকে পুজো করা হয় কুমারী জগদ্ধাত্রী রূপে
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাচীন কাল থেকে মা তারা কুমারী জগদ্ধাত্রী রূপে পূজিত হয়ে আসছেন তারাপীঠে। সেইমতো রবিবার নবমী তিথিতে দেবী তারাকে জগদ্ধাত্রী রূপে সাজিয়ে পুজো করা হল। সেই পুজো দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তারাপীঠ মন্দিরে ভিড় জমান। অন্যদিকে রামপুরহাটের রেলওয়ে ইয়ুথ ইউনিট ক্লাব তাদের ২০তম বর্ষের পুজোয় থিম করেছে ‘স্মৃতির আলোয়’। মণ্ডপ যেন অবিকল এক পুরনো দালান বাড়ির বিয়ের আসর। 
Advertisement
তারা মায়ের মধ্যেই সব দেবী বিদ্যমান আছেন। তাই রবিবার দেবী জগদ্ধাত্রীকে তারা মায়ের সঙ্গে অভেদ কল্পনা জ্ঞানে পুজো নিবেদন করা হল। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুজো করা হয়। বিকেল থেকে মা তারাকে ডাকের সাজ পরিয়ে জগদ্ধাত্রী রূপে পুজো শুরু হয়। এদিন সন্ধ্যায় মায়ের বিশেষ আরতি হয়। মধ্যাহ্নের পাশাপাশি রাতে বলির পাঁঠার মাংস, শোল মাছ, পোলাও, পাঁচ রকম সব্জি, পোলাও, খিচুড়ি দিয়ে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে এদিন নাটমন্দিরে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। চলে হোমযজ্ঞ। প্রচুর ভক্ত সেই পুজো দেখতে ভিড় জমান। এদিন সন্ধ্যায় মায়ের ডাকের সাজ ও বিশেষ আরতি দেখতে ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। 
বিহার থেকে আগত বিকাশ যাদব বলেন, প্রতিবছর ছট পুজো শেষে জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় পরিবার নিয়ে তারাপীঠে আসি। মায়ের কৃপায় পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে রয়েছি। আরেক পুণ্যার্থী জয়াবতী মজুমদার বলেন, এই একটা দিনেই তারা মাকে ডাকের সাজে দেখার জন্যই বছরভর অপেক্ষা করেন ভক্তরা। কিন্তু, এখন প্রায়ই মাকে ডাকের সাজ পরানো হচ্ছে। ফলে বিশেষ এই দিনে জগদ্ধাত্রী রূপে দেবী তারার ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে পুণ্যার্থীদের অভিযোগ। তাই শুধুমাত্র এই সময়েই মাকে ডাকের সাজে সাজানো হোক বলে তাঁর মত।  
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, চন্দননগর ও কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত হলেও তারা অঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে ভক্তের ঢল নেমেছে এই তীর্থক্ষেত্রে। যতদিন যাচ্ছে, সেই ভিড় বাড়ছে। 
অন্যদিকে রামপুরহাটের রেলওয়ে ইয়ুথ ইউনিট ক্লাবের জগদ্ধাত্রী পুজোয় রকমারি আলোকসজ্জা থাকলেও বিয়েবাড়ি থিম মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পুরো পুজো মণ্ডপটি গড়ে তোলা হয়েছে আস্ত একটি পুরনো আমলের বিয়ে বাড়ির আদলে। মণ্ডপের সামনের উঠোনে বর ও কনের বিয়ে দিচ্ছেন পুরোহিত। দাঁড়িয়ে রয়েছেন নাপিত ও আত্মীয়রা। ঢোল, সানাই নিয়ে পুজো মণ্ডপে ঢোকার মুখেই নহবত গেট। সেই সঙ্গে দালানের বারান্দার একদিকে চলেছে রান্নাবান্না, অন্যদিকে চলছে আমন্ত্রিতদের খেতে দেওয়া। এমনি বিয়েবাড়ির থিম গড়েই এবার ক্লাবের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা হরিমোহন দাস ও নয়ন রায় বলেন, পুরনো আমলে বিয়ে বাড়িগুলিতে যে চল ছিল, সেগুলিরই ৩৩টি মাটির তৈরি মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময় ক্যাটারার ছিল না। পাড়ার ছেলেরাই পরিবেশন করতেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই আর এগিয়ে আসেন না। বিশেষ করে তাঁদের কাছে সেই সময়কার কালচার তুলে ধরতেই এই প্রয়াস। 
এদিন কুমারী পুজোর আয়োজন করে নলহাটির আকালিপুর শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রম। এখানে জগদ্ধাত্রীর মৃন্ময়ী মূর্তির পাশে মা সারদার প্রতিকৃতি রেখে পুজো করা হয়। একইভাবে রামপুরহাটের হরিসভা মন্দিরে বছর দশেকের তনয়া ভট্টাচার্যকে কুমারী রূপে সাজিয়ে পুজো করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ