Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাবালকের সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত ডাকাতি ও গণধর্ষণে অভিযুক্তরা

নাবালকের সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত ডাকাতি ও গণধর্ষণে অভিযুক্তরা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়ার সাক্ষ্যেই ডাকাতি ও মায়ের গণধর্ষণে জড়িতরা দোষী সাব্যস্ত হল। ২০১৭ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থানা এলাকার ওই ঘটনায় মঙ্গলবার আলিপুরের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অয়ন মজুমদার তিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরমধ্যে আব্দুল হামিদ মোল্লাকে শুধুমাত্র ডাকাতি এবং ধনু শেখ ও রামজান শেখকে ডাকাতি ও গণধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রমাণের অভাবে খালাস পান এক অভিযুক্ত। বিচারকের মন্তব্য, এই মামলায় গৃহবধূর শিশুপুত্র নির্ভয়ে আদালতে যে সাক্ষ্য দিয়েছে, তা এক কথায় প্রশংসাযোগ্য। সে ছিল ওই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। এদিন বিচারক অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করার পর জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার তিন অপরাধীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করবেন। সরকারি কৌঁসুলি অরবিন্দ মিত্র বলেন, ঘটনার সাত বছরের কিছুটা বেশি সময়ের পর অপরাধীরা দোষী সাব্যস্ত হল, এটাই স্বস্তির বিষয়। 
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গভীর রাতে রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে বজবজ থানা এলাকায়। সশস্ত্র ডাকাতদল গভীর রাতে অভিযোগকারীর বাড়িতে হানা দেয়। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। বাড়ির গৃহকর্তাকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখা হয়। আলমারি থেকে নগদ ২৬ হাজার টাকা, সোনা‑রূপার গয়না ও দু’টি মোবাইল ফোন ডাকাতি করে। এরপর ৩৬ বছরের গৃহবধূকে ঘর থেকে বারান্দায় এনে গণধর্ষণ করে দু’ই অপরাধী। গৃহবধূর সাত বছরের ছেলে ওই দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করলে তাকে মুখ চেপে ধরে একজন। সে ভয়ে সিটিয়ে থাকে। ৩১ জানুয়ারি বজবজ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার পর মূল অপরাধী ধনু শেখ কালাহান্ডি পালিয়ে যায়। কয়েকমাস বাদে সে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে। বকিরা দেড় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হয়। এদিকে, তদন্তকারী পুলিস অফিসার ধীমান বৈরাগী আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য যায় আলিপুর জেলা আদালতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি শিবনাথ অধিকারী এদিন জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধৃতদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য দেন ১৩ জন। শুনানি চলাকালে মারা যান এক অভিযুক্ত। ফলে বিচার চলে চারজনের বিরুদ্ধে। জেল হেফাজতে রেখেই চলে বিচার। একজনকে মামলা থেকে খালাস দিয়ে বাকি তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ সমস্ত অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ