Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকাকে টোটোয় চাপিয়ে পালানোর চেষ্টা, ভয়ে ঝাঁপ, ধৃত চালক

নাবালিকাকে টোটোয় চাপিয়ে পালানোর চেষ্টা, ভয়ে ঝাঁপ, ধৃত চালক
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: টোটো চালকের দৌরাত্ম্য পুরুলিয়ায়! নাবালিকাকে টোটোতে চাপিয়ে গন্তব্যে না নামিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল শহরের এক টোটো চালকের বিরুদ্ধে। টোটো চালকের ‘বদ মতলব’ বুঝতে পেরেই টোটো থেকে ঝাঁপ মারে ওই নাবালিকা। তারপর গোটা ঘটনা পুলিসকে জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় নাবলিকার পরিবারের তরফে। শঙ্কর কালিন্দী নামের ওই টোটো চালককে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুরুলিয়া টাউন থানার পুলিস। বুধবারই তাকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। 
Advertisement
পুলিস সূত্রের খবর, ঘটনাটি গত ১ ফেব্রুয়ারির। ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ শহরের ডিগুডিপাড়ার বাসিন্দা এক ব্যক্তি তাঁর ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েকে টোটোতে চাপিয়ে টিউশনে পাঠান। টোটোতে নাবালিকা একাই ছিল। নাবালিকাকে ফর্টি কোয়ার্টারের সামনে নামানোর কথা ছিল চালকের। কিন্তু অভিযোগ, গন্তব্য পার হয়ে গেলেও চালক টোটো থামায়নি। নাবালিকা বারংবার চালককে নামিয়ে দেওয়ার কথা বললেও তাতে কর্ণপাত করেনি চালক। বরং আরও জোরে টোটো চালাতে থাকে। ভয়ে নাবালিকা চিত্কার করতে থাকে। নাবালিকা যত জোরে চিত্কার করতে থাকে, ওই টোটো চালক ততই হাসতে থাকে। চালকের বদ মতলব বুঝতে পেরে দেরি না করে টোটো থেকে ঝাঁপ মারে নাবালিকা। ব্যাপক চোট পায় সে। ঘটনাস্থলে মুহূর্তের জন্যও না দাঁড়িয়ে পালিয়ে যায় ওই টোটো চালক।
নাবালিকাকে রাস্তায় পড়তে দেখে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন স্থানীয় লোকজন। নাবালিকার চোখে মুখে জল দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় নাবালিকার বাবাকে। তিনি মেয়ের প্রাথমিক চিকিত্সা করিয়েই পুরুলিয়া টাউন থানার পুলিসের দ্বারস্থ হন। টোটো চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে পুলিস। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই চালককে খুঁজে বের করে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিস প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। তাছাড়া, টোটো চালককে ধরতে কেন এতদিন দেরি হল পুলিসের? সেই প্রশ্নও থাকছে। 
প্রসঙ্গত, শহরজুড়ে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার টোটো দাপিয়ে বেড়ালেও চালকদের কোনও তথ্যই নেই পুরসভা কিংবা প্রশাসনের হাতে। যে টোটো চালকদের উপর ভরসা করতে হয় শহরের আট থেকে আশি বছরের নাগরিকদের— তাঁরাই যদি এরকম কাজ করেন, তাহলে নাগরিকরা যাবে কোথায়? নাগরিকদের প্রশ্ন, ওই নাবালিকার সঙ্গে যদি খারাপ কিছু হতো, তার দায় পুরসভা, প্রশাসন নিজেদের ঘাড়ে নিত তো? পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, এধরনের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা টোটো চালকদের নথি সংগ্রহের সবরকম চেষ্টা করছি। সবাই নথি জমা দেয়নি। পুলিস প্রশাসনকে জানিয়েছি। তাঁরা যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ