সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাড়ি থেকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল রামপুরহাট আদালত। সেই সঙ্গে ধর্ষণে সাহায্যকারী অপর যুবককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বুবধার রামপুরহাট আদালতের এডিজে সৌগত রায়চৌধুরি এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সুরজিৎ সিনহা। সেই সঙ্গে দু’জনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দাদু মারা যাওয়ায় রামপুরহাটের একটি গ্রামে দিদিমার কাছেই থাকত ওই নাবালিকা। নাবালিকার বাড়িও ওই গ্রামেই। ২০২২ সালের ৩০ জুলাই রাত ১১ নাগাদ গ্রামেরই দুই যুবক মানিকলাল মার্ডি ও কালিদাস সরেন বাড়িতে ঢুকে নাবালিকার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জঙ্গলে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে কালিদাস নাবালিকার হাত পা ধরে রাখে এবং মানিকলাল তাকে ধর্ষণ করে। প্রায় দুঘণ্টা ধরে তার উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। ভোর ৩টে নাগাদ কালিদাস নাবালিকাকে বাড়ির কাছাকাছি ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই নাবলিকা বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে কাঁদতে থাকে। কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে দিদিমা জিজ্ঞাসা করলে সে অত্যাচারের কথা জানায়। খবর পেয়ে ওই নাবালিকার মা সকাল হতেই দুই অভিযুক্তর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক পকসো আইনের ধারা যুক্ত করে মামলা শুরু হয়।
সরকারি আইনজীবী বলেন, এতদিন অভিযুক্তদের জেলে রেখেই বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। এই মামলায় মোট ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ১০ মাস আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই নাবালিকাকে সরকারি ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী বলেন, এতদিন অভিযুক্তদের জেলে রেখেই বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। এই মামলায় মোট ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ১০ মাস আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই নাবালিকাকে সরকারি ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।



