নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তিন বছরে মামলার নিষ্পত্তি। নাবালিকাকে একা পেয়ে ধর্ষণের দায়ে ধৃত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করল রানাঘাট মহকুমা আদালত। শুক্রবার দেবাশিস বিশ্বাস নামে দোষী যুবককে কুড়ি বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। নিয়মিত ‘ট্রায়াল মনিটরিং’-এর মাধ্যমেই নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুত ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া গিয়েছে বলে দাবি রানাঘাট পুলিস জেলার আধিকারিকদের।
Advertisement
কী ঘটেছিল তিন বছর আগে? রানাঘাট পুলিস জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ার হাঁসখালি থানার অন্তর্গত একটি জনবহুল এলাকার একটি জিমের মালিক দেবাশিস বিশ্বাস। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে তার জিমে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর সেখানেই ধর্ষণ করে ওই নাবালিকাকে। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরলে পরিবারের লোকজন কান্নার কারণ জানতে চায়। তখন নির্যাতিতা সমস্ত ঘটনা খুলে বললেও বিষয়টি তখনই প্রকাশ্যে আসেনি। এরপর একমাস বাদে অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি হাঁসখালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে হাঁসখালি থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত দেবাশিস বিশ্বাসকে। এরপর তথ্য প্রমাণের উদ্দেশ্যে শুরু হয় তদন্ত। আড়াই বছর ধরে চলে বিচার প্রক্রিয়া। এই সময়ের মধ্যে দশ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয় রানাঘাট মহাকুম আদালতে। অবশেষে বৃহষ্পতিবার সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দেবাশিসকে দোষী সাব্যস্ত করেন রানাঘাট মহকুমা আদালতের বিচারক। শুক্রবার ছিল মামলার সাজা ঘোষণা। বিষয়টি নিয়ে সরকারি আইনজীবী অপূর্বকুমার ভদ্র বলেন, নাবালিকা মেয়েটির উপর যা জঘন্য অত্যাচার হয়েছিল, তার সঠিক বিচার পাইয়ে দিতে পেরে আমরা খুশি। পকসো মামলায় এটি সর্বোচ্চ সাজা। এই ধরনের নৃশংস অপরাধ করলে তার কোনও ক্ষমা নেই। রানাঘাট পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার লাল্টু হালদার বলেন, শুধুমাত্র তদন্ত করে দোষীকে গ্রেপ্তার করাই নয়, রানাঘাট পুলিস আদালতে কী গতিতে মামলা এগচ্ছে তার ‘ট্রায়াল মনিটরিং’ করছে। সরকারি আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কাজের সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি কেস গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই এ যাবৎকালে রানাঘাট আদালত থেকে একাধিক মামলায় সাজা ঘোষণা হয়েছে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে। যারা অপরাধ মনস্ক, তাদের আমরা স্পষ্ট মনে করিয়ে দিতে চাই, দেশে আইন রয়েছে।



