Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালকদের মধ্যে বাড়ছে বাইক, স্কুটি ও টোটো চালানোর প্রবণতা

নাবালকদের মধ্যে বাড়ছে বাইক, স্কুটি ও টোটো চালানোর প্রবণতা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এখনও বয়স ১৮-র গণ্ডি পার করেনি। যদিও তাদের একাংশের হাতেই বাইক ও স্কুটির রাশ। কেউ বাবার বাইক দেদারে ছুটিয়ে চলেছে। কেউ আবার দাদা কিংবা আত্মীয়ের স্কুটি নিয়ে পাড়ার গলিপথ থেকে শুরু করে রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘটনায় অনেকেই অভিভাবকদের কাঠগড়ায় তুলছেন। অভিযোগ, অভিভাবকদের উদাসীনতার জেরেই নাবালকদের হাতে বাইক ও স্কুটির রাশ চলে যাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিস মহলের তরফে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে। যদিও জেলাবাসীর একাংশের দাবি, তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। উল্টে সকলের অলক্ষ্যে নাবালক রাইডারদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। সেইসঙ্গে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চলছে।
Advertisement
পরিবহণ দপ্তরের নিয়ম অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক কিংবা স্কুটি চালানো আইনত দণ্ডনীয়। সেক্ষেত্রে জরিমানার ঘটনাও আকছার ঘটছে। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা করে কে? বলা বাহুল্য অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্রয়ে নাবালক রাইডারদের হাতে বাইক-স্কুটির চাবি উঠে যাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যে বেড়ে চলেছে, তা বলার অবকাশ থাকে না। সম্প্রতি বীরভূম জেলার রামপুরহাটের শালবাদরায় ঘটে যাওয়া ঘটনা যেন সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর দিল। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সকালে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বাবার বাইক নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। বাইকে তার সফরসঙ্গী হিসেবে এক সহপাঠীও ছিল। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যেতেই গোয়ালার মোড় এলাকায় তাদের বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আচমকাই সামনে কুকুর চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা পড়ে যায়। ঘটনার জেরে এই যাত্রায় ওই দুই পরীক্ষার্থীর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া হল না। এখানেই শেষ নয়। বর্তমান সময়ে বাইক-স্কুটির পাশাপাশি ১৮ অনুর্ধ্বরা টোটোতেও হাত পাকাতে শুরু করেছে। পেশার তাগিদে নয়, বরং নিজেদের সুবিধার্থে অনেকেই টোটো নিয়ে রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গত বুধবার তার প্রমাণও মিলেছে। সাঁইথিয়ার বাসিন্দা এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী টোটো চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিল। সেই টোটোতে তার দুই বন্ধুও ছিল। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যেতেই তাদের টোটো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনায় তিন পরীক্ষার্থীই চোট পায়। তাদের মধ্যে চালকের আসনে থাকা পরীক্ষার্থীর চোট একটু বেশিই ছিল। তার পায়ে দু’টো সেলাই পড়েছিল। 
জেলাবাসীর একাংশের দাবি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বহু ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। সেই দুর্ঘটনার তালিকায় নাবালক রাইডারদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। শেখ সামসুদ্দিন বলেন, ১৮ বছরের আগে বাচ্চাদের হাতে বাইক-স্কুটি তুলে দেওয়া খুবই বিপজ্জনক। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রাণহানিও হতে পারে। সময় থাকতেই সকলের সচেতন হওয়া দরকার।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ