Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা উদ্ধারে গিয়ে বাধার মুখে পুলিস, কাঠগড়ায় নেতা

নাবালিকা উদ্ধারে গিয়ে বাধার মুখে পুলিস, কাঠগড়ায় নেতা
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
঩নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নাবালিকাকে উদ্ধার করে আনার পথে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের বাধার মুখে পড়ল পুলিস। পুলিসের গাড়ি ঘিরে ধাক্কাধাক্কি চলল। নাবালিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হল। শনিবার ভগবানপুর থানার উত্তরবাড় গ্রামে ওই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ভগবানপুর থানার ওসি অতিরিক্ত বাহিনী পাঠান। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রাজীব হাজরার স্ত্রী শ্রাবন্তী ভঞ্জ হাজরা মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান। রাজীব একসময় মহম্মদপুর-১ অঞ্চল তৃণমূলের যুব সভাপতি ছিলেন। এখন দলের ব্লক কমিটির সদস্য। একদা নান্টু প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজীবের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সেই রাজীব এদিন নাবালিকা উদ্ধারের সময় পুলিসের গাড়ি আটকে তীব্র ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। সাঙ্গপাঙ্গদের জুটিয়ে রাস্তার উপর পুলিসের গাড়ি ঘিরে নাবালিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। তবে পুলিসি তৎপরতায় রাজীব ও তাঁর লোকজন পিছু হটে।
Advertisement
গত ১৬জানুয়ারি সকালে ভূপতিনগর থানার রসিকনগর গ্রামের ১৪বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। বাড়ির লোকজন খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ভগবানপুর থানার উত্তরবাড় গ্রামের এক যুবক মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়েছে। অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম বিপ্লব মান্না। ২৩বছর বয়সি বিপ্লবের একটি সেলুন রয়েছে। ওই নাবালিকা রসিকনগর হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে উঠেছে। কয়েকদিন আগে ওই নাবালিকা তার মামির সঙ্গে উত্তরবাড় গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে মেলায় বিপ্লবের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। সেখানেই দু’জনের মধ্যে ফোন নম্বর বিনিময় হয়। তারপর থেকে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত শুক্রবার নাবালিকার বাবা, কাকা এবং পঞ্চায়েত প্রধানের প্রতিনিধি উত্তরবাড় গ্রামে যান। নাবালিকার বাবার সঙ্গে মিটিং করেন রাজীব হাজরা। সেখানে ওই নাবালিকাও ছিল। মেয়ে সুখে শান্তিতে থাকবে বলে নাবালিকার বাবা-কাকাকে বুঝিয়ে তাঁদের মিষ্টি খাইয়ে ওই তৃণমূল নেতা বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর শনিবার সকালে ওই নাবালিকার বাবা ভূপতিনগর থানায় গিয়ে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ হতেই ওই থানার এসআই আমিনুল ইসলাম টিম নিয়ে নাবালিকা উদ্ধার করতে উত্তরবাড় গ্রামে রওনা দেন। নাবালিকাকে গাড়িতে তুলে ফেরার সময় রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। গ্রামের মহিলাদের জমায়েত করে গাড়ি থেকে নাবালিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভগবানপুর থানার ওসিকে ফোন করে ওই টিম। ভগবানপুর থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয়। কোনওরকমে নাবালিকাকে নিয়ে থানায় পৌঁছয় পুলিসের টিম।
ওই তৃণমূল নেতা বলেন, শুক্রবার নাবালিকার বাবা, কাকা এবং ওই এলাকার প্রধানের প্রতিনিধি আমার সঙ্গে মিটিং করেছেন। তাঁরা মেয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়ে ছিলেন। মিষ্টি, চা খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তারপর শনিবার আচমকা পুলিস নাবালিকা উদ্ধার করতে আসে। তাকে অন্য একটি জায়গায় রাখা ছিল। নাবালিকাকে না পেয়ে পুলিস ওই যুবকের মাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখনই ঝামেলা হয়। আমরাই নাবালিকাকে পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছি। ভগবানপুর থানার ওসি শাহেনশা হক বলেন, নাবালিকা উদ্ধার নিয়ে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ