Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা প্রসূতি আটকাতে ‘স্পট’ চিহ্নিত করে প্রচার স্বাস্থ্য দপ্তরের

নাবালিকা প্রসূতি আটকাতে ‘স্পট’ চিহ্নিত করে প্রচার স্বাস্থ্য দপ্তরের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলার নাবালিকা প্রসূতি আটকাতে ‘স্পট’ চিহ্নিত করে সচেতনামূলক প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যেসব এলাকা থেকে বেশি সংখ্যক নাবালিকা প্রসূতি হয়েছে সেখানেকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে আলোচনা শুরু করেছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই জেলায় বেশ কয়েকটি চিহ্নিত এলাকায় প্রচার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সিউড়ি-২ ব্লকের ১২ বছরের এক নাবালিকার গর্ভপাত করিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের কাছে অন্যতম মাথাব্যথা নাবালিকা প্রসূতির ঘটনা রোধ করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নাবালিকা প্রসূতি হয়েছিল। জেলার মোট প্রসূতি হওয়ার ঘটনার ২৮ শতাংশই নাবালিকা, যা রাজ্যের নিরিখে সবথেকে খারাপ। বিশেষ করে মুরারই, নানুর, খয়রাশোল, সাঁইথিয়া, সিউড়ি-১ ব্লকগুলিতে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, এইসব ব্লকে নাবালিকা বিয়ের সংখ্যাও বেশি। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে না পারার জন্যই এই ঘটনা ঘটছে। তাই কোন পথে এর সমাধান সূত্র বেরবে তা খুঁজছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে প্রাথমিকভাবে সচেতনামূলক প্রচারের দিকেই সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। যেসব গ্রামে এই ঘটনা বেশি ঘটছে তা নথিভুক্ত করছেন বিএমওএইচরা। তারপর সেখানে একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে আশাকর্মীরাও থাকছেন। নাবালিকা প্রসূতির ও সন্তানের কী কী সমস্যা হতে পারে, তা বোঝানো হচ্ছে। এর আগে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার অন্তর্গত সিউড়ি-১ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম, সিউড়ি-২ ব্লকে প্রচার করা হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্যকর্তাদের নিয়ে আলাদা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। যেখানে নিয়ম করে নাবালিকা প্রসূতির ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে। 
গত সপ্তাহে মাত্র ১২ বছরের এক নাবালিকার গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার খবর আসে প্রশাসনের কাছে। খবর পাওয়ামাত্র তার বাড়িতে পৌঁছন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। জানা যায়, ওই নাবালিকা সম্ভবত ৫ মাসের বেশি সময় গর্ভবতী। তা শুনেই তাজ্জব হয়ে যান স্বাস্থ্যকর্তারা। এরপর প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরবর্তীতে পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা হয়, ১২ বছরে মা হয়ে গেলে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তান তো সুস্থ থাকবে না সেই সঙ্গে মায়ের জীবন সংশয় হতে পারে। সেই কারণে মায়ের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ওই নাবালিকার গর্ভপাত করিয়ে দেয় প্রশাসন। এরকম বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 
বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ হিমাদ্রি আড়ি বলেন, আমরা স্পট চিহ্নিত করে প্রচার শুরু করেছি। আশা করি, এতে ফল পাওয়া যাবে। নাবালিকা বিয়ে আটকানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আবার নানুরে এক ৪৪ বছরের মহিলার চারটি সন্তান রয়েছে। তিনি আবার গর্ভবতী হয়েছেন। এ বিষয়েও প্রচার জরুরি। সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন লোকজনকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করব। তা না হলে সংক্রমক ব্যাধির মতো নাবালিকা বিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।
সম্পর্কিত সংবাদ