Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা গর্ভবতী হলেই এবার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পকসো ধারায় মামলা

নাবালিকা গর্ভবতী হলেই এবার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পকসো ধারায় মামলা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুলিস-প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নাবালিকাকে বিয়ে করে নিলেও আর মিলবে না নিস্তার। নাবালিকা স্ত্রী গর্ভবতী হলেই খবর যাচ্ছে পুলিসের কাছে। স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করছে পুলিস। নিস্তার পাচ্ছেন না পাত্র ও পাত্রীর বাবাও। নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু হচ্ছে। একটি-দু’টি নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এখনও পর্যন্ত আটটি মামলা রুজু হয়েছে। তারমধ্যে একাধিক মামলায় চার্জশিটও হয়ে গিয়েছে। সদ্যোজাতকে নিয়ে আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরছেন নাবালিকারা। সন্তান জন্মের পর আনন্দ দূরে থাক, বাবার উপর ঝুলছে ২০ বছরের জেলের সাজার খাঁড়া। 
Advertisement
আসানসোল বিশেষ পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল বলেন, এই ধরনের ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ নম্বর ধারায় ধর্ষণের মামলা রুজু হচ্ছে। পাশাপাশি ৪, ৬ পকসো ধারা, চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টেও মামলা রুজু হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বামীর ২০বছর জেল হতে পারে। 
আসানসোল পকসো আদালতে এজলাসের কাছে সদ্যোজাতর কান্না শোনা যাচ্ছে। মায়ের কোলে সন্তান ও পাশে দাঁড়িয়ে বাবা। অভিযোগ বাবা, মাকে ধর্ষণ করার জন্য জন্ম হয়েছে সন্তানের। এক্ষেত্রে স্ত্রী অভিযোগকারী নয়, খোদ পুলিসের অভিযোগ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানা যায়, নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করতে মরিয়া পুলিস ও প্রশাসন এমনই পদক্ষেপ নিচ্ছে। নাবালিকাকে গোপনে বিয়ে করেও যে পার পাওয়া যাবে না সেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। 
বিয়ের পর নাবালিকা গর্ভবতী হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, নার্সিংহোম যাচ্ছে। সেখান থেকেই গর্ভবতী নাবালিকাদের তথ্য পুলিসকে দেওয়া হচ্ছে। নাবালিকার বাপেরবাড়ি যে থানা এলাকায় সেখানে মামলা রুজু হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আসানসোল উত্তর থানায় তিনটি এই ধরনের মামলা রুজু হয়েছে। জামুড়িয়া থানাতেও একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। পুরো বিষয়টির উপর নজরদারি রাখছে জেলা প্রশাসন। আইনজীবীদের একাংশ বলেন, নাবালিকা গোপন জবানবন্দিতে স্বামীর ধর্ষণের কথা স্বীকার না করতে চাইলেও দোষ প্রমাণের সম্ভাবনা বেশি। কারণ নবজাতকের ডিএনএ টেস্ট হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে সন্তানের বাবা কে। সেক্ষেত্রে স্বামী দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সদ্যোজাতই।
অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, আমরা ৭১টি নাবালিকার বিয়ে আটকেছি। তা সত্ত্বেও বহুক্ষেত্রে দেরিতে খবর পাওয়ার জন্য আটকানো যায়নি। নাবালিকা গর্ভবতী হলে তার স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হয়। আমরা বার্তা দিতে চাই, কোনওভাবেই নাবালিকার বিয়ে দেবেন না। নাবালিকাকে বিয়ে করলে জেল যাওয়া নিশ্চিত।
সম্পর্কিত সংবাদ