নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: না, ছেলে বলে তার পক্ষে দাঁড়াতে চান না তিনি। অযথা ছেলেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবিও করতে চান না। বরং মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে গুণধর ছেলের চরম শাস্তিই চান নিউটাউনে নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডে ধৃত সৌমিত্রের মা ঝর্ণা রায়। নিজে শত কষ্ট করেও ছেলেকে মানুষ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই তাঁর দাবি, ‘একটা ছোট্ট মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে ও। ঘৃণ্য এই অপরাধের জন্য আমি ওর পাশেই দাঁড়াতে চাই না। নদীয়ার রানাঘাটের ধানতলা থানা এলাকার বাসিন্দা ঝর্ণাদেবী। অত্যন্ত সাধারণ নিম্নবিত্ত ঘরে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। বিয়ের মাত্র কয়েক বছর বাদেই জন্মায় সৌমিত্র। কিন্তু ছেলের বয়স যখন মাত্র দু’মাস, তখনই সংসার ছেড়ে অন্য আর একটি বিয়ে করে চলে যান তাঁর স্বামী। ফলে সেই থেকেই নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছেলেকে বড় করার চেষ্টা শুরু হয় তাঁর। ইচ্ছা ছিল, ছেলে লেখাপড়া শিখে মানুষ হবে। তাই শত কষ্ট সত্ত্বেও কখনও বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে, কখনও কলকাতায় আয়ার কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। এমনকী দু’টো টাকা বেশি আয়ের জন্য রাজ্য ছেড়ে বেঙ্গালুরুতেও পড়ে থাকতে হয়েছে বছরের পর বছর। তাঁর দেখভালের অভাবে ছেলেটার ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, তাই সীমিত সামর্থ্য নিয়েও হুগলির মগরার একটি মিশনারি বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সে আর হল কই! মায়ের পাঠানো লেখাপড়ার টাকা খরচ করে নেশাড়ু হয়ে যায় সৌমিত্র। তবুও শেষবার চেষ্টা করেছিলেন মা। কলকাতার কেষ্টপুরে জগতপুরের কাছের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন দু’জনে। কিন্তু রগচটা, বদমেজাজি ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। রানাঘাটের দত্তপুলিয়ায় এক গৃহবধূর প্রেমে পড়ে প্রথম বিয়ে করে অভিযুক্ত সৌমিত্র। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন বাদে আত্মহত্যা করে প্রথম স্ত্রী। পণের জন্য মানসিক অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের খবর, এক বন্ধুর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে মায়ের সঙ্গে ছাড়াছড়ি হয়ে যায় তার। যোগাযোগ বলতে কদাচিৎ ফোনে কথা। নিউটাউনের একটি তরুণীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করে অভিযুক্ত সৌমিত্র।
Advertisement
বুধবার ধানতলায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঝর্ণাদেবী বলেন, কলকাতায় আমার ছেলে টাইলসের কাজ করত। কিন্তু ৬ মাস আগে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন বলে, টাইলসের কাজের পাশাপাশি এখন নাকি টোটো চালাচ্ছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। এর মাঝে হঠাৎ একদিন আমি একটি ফোন পাই। আমার পরিচিত একজন বলে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সৌমিত্র। ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে কী বক্তব্য? প্রশ্নের উত্তরে ন্যূনতম কালবিলম্ব না করে ঝর্ণাদেবী বলেন, একটা মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলে হলেও আমি চাইব ওর চরম শাস্তি হোক। ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর একজন উকিলকে দিয়ে ফোন করিয়েছিল। ২ হাজার টাকা চেয়েছিলেন সেই উকিল। কিন্তু আমি টাকা দিতে চাইনি। আমার সারা জীবনের পরিশ্রম ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করব।



