Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ২১ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ২১ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফরাক্কায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ২১ দিনের মাথায় অভিযুক্ত দু’জনের নামেই চার্জশিট জমা দিল ফরাক্কা থানার পুলিস। সোমবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। আর জি করের ঘটনার পর ফরাক্কার নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন তৈরি হয়। পুলিস তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, গণধর্ষণ, প্রমাণ লোপাট ও পকসো ধারায় চার্জশিট জমা করা হয়েছে। পুলিসি তদন্তে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। অভিযুক্ত দীনবন্ধু হালদার ও শুভ হালদারদের ফাঁসির দাবি করছেন তাঁরা। নাবালিকার পরিবারের দাবি, আমরা মেয়েকে হারিয়েছি। ওকে তো আর ফিরে পাব না। পুলিস ভালোভাবে তদন্ত করেছে। তাই একটু ভরসা পাচ্ছি। তাড়াতাড়ি যাতে অভিযুক্তদের শাস্তি হয় সেই আশায় রয়েছি।
Advertisement
ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন, খুব দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হল। দুই অভিযুক্তের নামেই চার্জশিটে একাধিক ধারার উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোয় দিল্লি থেকে দাদুর বাড়িতে বেড়াতে এসে নৃশংসভাবে খুন হয় বছরের নয়ের ওই নাবালিকা। বিজয়া দশমীর দিন বান্ধবীদের সঙ্গে সে ফুল কুড়োতে বের হয়। ফুল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী মাছ ব্যবসায়ী দীনবন্ধু তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর দীর্ঘক্ষণ তার দেখা না পাওয়ায় বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে থাকেন। নাবালিকার বান্ধবীরা জানায়, মাছ ব্যবসায়ী দীনবন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেল কলোনি এলাকার ওই মাছ ব্যবসায়ীর বাড়ি গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। ঘরের এক কোণা থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। পুলিস মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। 
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, নাবালিকাকে খুনের আগে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। নাবালিকার দেহে একাধিক ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর দেহ লোপাট করার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। সেই জন্য দেহটিকে বাড়ির মধ্যেই বস্তবন্দি করে ফেলা হয়। এই গোটা কাজ একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয় বলে অনুমান করে পুলিস। মূল অভিযুক্ত দীনবন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শুভর জড়িত থাকার কথা পুলিস জানতে পারে। এরপরই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। এই দু’জনের বিরুদ্ধেই পুলিস চার্জশিট জমা দিল।
ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের পুলিস প্রশাসন আছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করেছে পুলিস। এই নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি হবে। সাধারণ মানুষ হিসেবে এই ধরনের ঘটনা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। রাজ্যের সমস্ত জায়গায় এই ধরনের ঘটনায় পুলিস উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয় এবং নেবে। 
মুর্শিদাবাদ জেলার ডিওয়াইএফের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন দাস বলেন, ঘটনার পর পুলিস শুধু খুনের মামলা রুজু করেছিল। আমরা তিন ঘণ্টা আন্দোলনের পর সেখানে ধর্ষণের ধারা যোগ করা হয়। কয়েকদিন আগেই আমাদের নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্যাতিতার পরিবারের লোকদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করি। সেখানে বাধ্য হয়ে পুলিস এসে মাইকে সকলের সামনে কথা দেয়, দ্রুত চার্জশিট জমা হবে। তাই এদিন চার্জশিট জমা হয়েছে। 
মুর্শিদাবাদ উত্তর সাংগঠনিক জেলা(জঙ্গিপুর) বিজেপির সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষ বলেন, চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই প্রশংসা করার মতো। তবে পুলিসের এই তৎপরতা সব জায়গায় কেন থাকে না, সেটা বুঝি না।
সম্পর্কিত সংবাদ