সংবাদদাতা, লালবাগ: বুধবার বিকেলে নবগ্রাম থানার ঘোষপাড়ায় ঘর থেকে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রীতি ঘোষ(১৪)। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিস মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নবগ্রাম থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, কোনও অভিযোগ হয়নি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতার পরিবার ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নবগ্রাম বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি পড়াশোনায় মেধাবী ছিল। বুধবার বিকেলে সে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ছাত্রীর বাবা প্রাণকুমার ঘোষ বলেন, মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে খাওয়াদাওয়া করে ঘরে যায়। যাওয়ার আগে ওর মাকে বলে, ঘরে যাচ্ছি। ১০ মিনিটের কাজ আছে। এই সময়ের মধ্যে কেউ ঘরে ঢুকবে না। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ ঘরে মেয়ে থাকায় বাড়ির লোকের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকিতে কোনও সাড়া মেলে না। তখন দরজা ভাঙতেই দেখি, মেয়ে গামছার ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে। তড়িঘড়ি ওকে নামিয়ে নবগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ওকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর দাদু প্রভাতকুমার ঘোষ বলেন, স্কুলে খোঁজ নিয়েছি। সেখানেও কোনওরকম ঝামেলা হয়নি। কিন্তু নাতনি কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিল তার কোনও উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। প্রীতি এলাকায় মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিল। তার গৃহশিক্ষক দেবদাস অধিকারী বলেন, প্রীতি শান্ত প্রকৃতির মেয়ে ছিল। পড়াশোনাতেও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু ও কেন এমন করল বুঝতে পারছি না।