নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জামালপুরের নবগ্রামে হাত, পা বেঁধে এক ব্যক্তিকে খুন করল দুষ্কৃতীরা। বুধবার নবগ্রাম শ্মশানের কাছে তাঁর মৃতদেহ পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে খবর দেন। মৃতের শরীরের নীচের অংশের পোশাক ছিল না। মুখ এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মারধর করার পর তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম ওয়াহাব শেখ(৪৫)। তাঁর বাড়ি মশাগ্রামে। মৃতের সম্পর্কিত ভাই মহম্মদ মুস্তাক বলেন, ও বাড়িতে থাকত না। কোথায় কখন যেত তা কেউ জানত না। জুয়া খেলার নেশা ছিল। জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার বোর্ড বসে। সে খবর পেলেই জুয়ার আসরে হাজির হয়ে যেত। আমাদের মনে হচ্ছে জুয়ায় টাকা জেতা বা হারা নিয়েই তার সঙ্গে কারও অশান্তি হয়েছিল। তার জেরেই এই ঘটনা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির স্ত্রী এবং এক ছেলে রয়েছে। তাঁরা দিল্লিতে থাকেন। দীর্ঘদিন তাঁদের সঙ্গে মৃতের সম্পর্ক ছিল না। তিনি বেশ কিছুদিন সব্জি ব্যবসা করছিলেন। পরে সেই ব্যবসা গুটিয়ে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েন। জমানো টাকায় জুয়া খেলতে গিয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কোথায় কী কাজ করতেন তিনি বাড়ির লোকজনদের জানাতেন না। মাঝেমধ্যে বাড়ি ফিরতেন। কিছুক্ষণ থেকে আবার বেরিয়ে যেতেন। জামালপুর ছাড়াও তিনি অন্যান্য এলাকায় গিয়েও জুয়া খেলতেন বলে পরিবারের লোকজন পুলিসকে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জুয়ার ঠেক বন্ধ করতে পুলিসের সক্রিয় হওয়া উচিত। তা না হলে এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকবে। এই থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে হামেশাই জুয়ার ঠেক বসে। যদিও পুলিস তা মানতে নারাজ। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, কোথাও রমরমিয়ে জুয়ার বোর্ড চলে না। কোনও কোনও জায়গায় তা লুকিয়ে চলতে পারে। সেগুলিও বন্ধ করা হবে। এই ঘটনায় কয়েকজন জুয়াড়ি পুলিসের নজরে রয়েছে। তারা এলাকা থেকে চম্পট দিয়েছে। জামালপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর নবগ্রামের ওই এলাকায় লোকজন যাতায়াত করে না। সেই সুযোগে ওই ব্যক্তিকে মারা হতে পারে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তর জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



