Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপের রাসে সাবেকিয়ানা অতীত, থিম-যুদ্ধে দর্শক টানার প্রতিযোগিতা

নবদ্বীপের রাসে সাবেকিয়ানা অতীত, থিম-যুদ্ধে দর্শক টানার প্রতিযোগিতা
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের রাসের চিরকালের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য হল উচ্চতায় বড় আকারের প্রতিমা। রীতিমতো ঘাড় উঁচু করে দর্শন করতে হয় প্রতিমা। এই সব দেবদেবীর মূর্তি দর্শনে ভিড় করেন দেশবিদেশের অসংখ্য পুণ্যার্থী ও পর্যটক। এদিকে বেশ কয়েক বছর ধরে সাবেকিয়ানা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে শহরের কিছু ক্লাব ও বারোয়ারি। থিমভাবনার মধ্য দিয়ে কোন মণ্ডপ কত দর্শনার্থী টানতে পারবে, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। থিম ভাবনা নিয়ে এখন থেকেই সর্বত্র চলছে নিরন্তর আলোচনা।
Advertisement
নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাসে শহরের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে লড়াই যদি হয় প্রতিমার উচ্চতা নিয়ে, তাহলে পশ্চিমাঞ্চলের লড়াইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলে থিমের ভাবনার লড়াই। সেই ভাবনাকে পাথেয় করে এবার থিমের চমক হিসাবে কোথাও থাকছে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, কোথাও ‘ডাকঘর’, কোথাও ‘কাঁটাতার’ বা ‘অ্যানাকোন্ডা’। 
নবদ্বীপ প্রাণ গোপালনগর আদি অগ্রগামী ক্লাবের হঠাৎ কালীর এবারের থিম ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’। এই থিমের মাধ্যমে মহাশ্মশানে মহাযজ্ঞ, মাতৃসাধনা এবং জীবন্ত তান্ত্রিকের অলৌকিক ক্ষমতার দৃশ্যায়ন তুলে ধরা হবে। এখানে তারামায়ের মন্দির থাকবে। সেখানে পান্ডাদের সাহায্য নিয়ে দেবীর কাছে পুজো দিতে পারবেন দর্শনার্থীরা। সেজন্য মন্দিরের সামনে থাকবে যেমন ভোগ ও ফুলের দোকান। তেমনি মন্দিরের সামনে থাকবে প্রতিবন্ধী ভিক্ষাজীবীও। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ পান্ডা থেকে সাবধান থাকার পরামর্শও দিয়েছে ভক্তদের।
নবদ্বীপ ওলাদেবীতলা সবুজ সঙ্ঘের সৌপ্তিক মহাদেব পুজোয় এবারের থিম ‘অ্যানাকোন্ডা’। ওই অ্যানাকোন্ডার বিশালাকায় মুখের ভেতর দিয়েই দর্শনার্থীদের পুজো মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে। মণ্ডপের ভেতরে থাকবে অ্যানাকোন্ডা যে সব মানুষকে মেরে ফেলেছে, তাঁদের কঙ্কাল।
এখানে দেবমূর্তি সৌপ্তিক মহাদেব। মূর্তির বিবরণ হিসাবে জানা গিয়েছে মহাভারতের কাহিনী। পঞ্চপাণ্ডবরা একটি যজ্ঞ করছিলেন। সেখানে কৌরবরা যাতে আক্রমণ করতে না পারে তাই শিব সাধারণ বেশে সেখানে পাহারা দিচ্ছিলেন। অশ্বথামা, পাণ্ডবদের মারবার জন্য ওই স্থানে আসেন। সেখানে দরজায় পাহারারত শিবকে চিনতে না পেরে তির মারতে থাকেন। শিব সেই সব তির খেয়ে নিচ্ছিলেন। পরে কৃপাচার্য এসে বুঝতে পারেন, ইনি সাধারণ মানুষ নন। কৃপাচার্য বুঝতে পেরে অশ্বথামার হয়ে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আমি তোমায় চিনতে পেরেছি। তখন শিব চার হাত নিয়ে রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন। সেই মূর্তি এখানে পূজিত হয়।
মালঞ্চপাড়ার আচার্য পাড়া লেনের গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া সঙ্ঘের এ বছরের থিম ‘হন্টেড সার্কাস’। এটি একটি ভৌতিক থিম। পাঁচ কাঠা জায়গা জুড়ে তৈরি প্যাণ্ডেলে ভুতুড়ে সার্কাস থিম তুলে ধরা হবে।
নবদ্বীপ প্রতাপনগর বাজারের ভারত সঙ্ঘের গঙ্গামাতা পুজোর এবারের থিম ‘ডাকঘর’। এই থিম সজ্জায় থাকছে ডাকঘরের চিঠিপত্রের লেনদেন। একটা সময় লণ্ঠন আর লাঠি হাতে রানার খবর পৌঁছে দিত। পরবর্তী সাইকেল করে সময়ে বাড়ি বাড়ি ডাক নিয়ে যেত। আগামী প্রজন্মের কাছে সেই ডাকঘরকে তুলে ধরতে চলেছে পুজো উদ্যোক্তারা।
সম্পর্কিত সংবাদ