Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপ মহিশুরা পঞ্চায়েতের অধিকাংশ রাস্তায় নেই আলো, সমস্যায় বাসিন্দারা

নবদ্বীপ মহিশুরা পঞ্চায়েতের অধিকাংশ রাস্তায় নেই আলো, সমস্যায় বাসিন্দারা
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: গ্রামের অধিকাংশ রাস্তায় একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি। অথচ সেই সব খুঁটিতে নেই কোনও পথবাতি। ফলে সন্ধ্যা নামতেই পঞ্চায়েতের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ডুবে যায় অন্ধকারে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ওই সব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। নবদ্বীপ মহিশুরা পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার পঞ্চায়েতকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। পাশাপাশি ওই এলাকাজুড়ে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অপরিচিত লোকের আনাগোনা বাড়ছে। রাস্তার দু’ধারে জলা জমি ও জঙ্গল থাকায় বেড়েছে সাপের উপদ্রবও। এক্ষেত্রে গ্রামের পড়ুয়া থেকে গ্রামবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা টর্চ বা মোবাইলের আলো। এমনই অন্ধকারময় পরিস্থিতি ভাগীরথী তীরবর্তী নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা গ্রামের।
Advertisement
এই গ্রামের শেষ প্রান্ত চৌমাথা মোড়ে প্রায় পাঁচমাস আগে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়েছে। ওই একটি মাত্র আলোর উৎস। এছাড়া চৌমাথা মোড় থেকে কালিনগর স্টেশন, কপালিপাড়া হয়ে পঞ্চায়েত অফিসে যাওয়ার রাস্তা, মাঝেরচড়া হয়ে মালিতাপাড়া গঙ্গারঘাট পর্যন্ত এবং কপালিপাড়া এলাকাগুলিতে কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে কেউ কালিনগর স্টেশন, কেউ কপালিপাড়া, পঞ্চায়েত অফিস, মাঝেরচড়া যাতায়াত করেন। এমনকী বাইক, টোটো, অটো সহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনে মহিশুরা গ্রাম হয়েই পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানা এলাকায় যাতায়াত করেন। পূর্বরেলের হাওড়া-কাটোয়া ডিভিশনের অধীনে নবদ্বীপ মহিশুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় রয়েছে কালীনগর স্টেশন। এই স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্টেশনে যাওয়ার এই পঞ্চায়েতের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় নেই কোনও বাতি। ফলে সন্ধ্যার পর যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মহিশুরা পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। অথচ গ্রামের ওই সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আলোহীন রয়েছে।
ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে মহিশুরা পঞ্চায়েতের নদী সংলগ্ন এই পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশ মানুষই শ্রমজীবী। গৌরাঙ্গ সেতু থেকে গ্রামে ঢোকার রাস্তার শেষ প্রান্তে মহিশুরা চৌমাথার মোড়ে পাঁচমাস আগে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়েছে। গ্রামের রাস্তায় হাতে গোনা কয়েকটি সোলার লাইট লাগানো হয়েছে। গ্রামে ঢোকার কিছুটা জায়গা আলো থাকলেও আর কোনও রাস্তায় নেই আলো। 
মহিশুরা পঞ্চায়েতের মাঝের পাড়ার বাসিন্দা নবম শ্রেণির রোজিনা খাতুন বলে, লাইট নেই। ফলে সন্ধ্যার পর প্রাইভেট টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরতে ভয় লাগে। মাঝের চড়ার বাসিন্দা তোয়াজ শেখ বলেন, রাতের দিকে বিশেষ করে কালিনগর স্টেশন, কপালিপাড়া, মাঝের চড়া এইসব রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মহসিন মণ্ডল বলেন, গ্রামের এই রাস্তায় রয়েছে সাপের উপদ্রব। সন্ধ্যার পর শিয়াল বের হয়। মহিশুরা চৌমাথার মোড় থেকে স্টেশনের দিকে যাওয়ার পঞ্চায়েতের রাস্তা, মাঝেরচরা গ্রামে যাওয়ার রাস্তায় কোনও লাইট নেই। 
মহিশুরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আকমল সর্দার বলেন, পঞ্চায়েতের সীমিত অর্থ। সেই টাকা দিয়ে গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ রাস্তা, ড্রেন, পানীয় জল এসবেই খরচ হয়ে যায়। পথবাতি লাগানোর মতো অর্থ পঞ্চায়েতের নেই। আমরা বিষয়টি ব্লক, জেলাস্তর ও বিধায়ককেও জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ