সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অতিরিক্ত পণের জন্য এক গৃহবধূকে মানসিক অত্যাচার ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার বধূর স্বামী। সোমবার সকালে অভিযুক্ত স্বামী গোপাল ঘোষকে নবদ্বীপ বড়ালঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বাকি অভিযুক্ত বধুর শ্বশুর,শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদ পলাতক। গত বুধবার রাতে নবদ্বীপ থানার নতুন আনন্দবাসে গীতা চৌধুরী ঘোষ নামে বছর একুশের এক গৃহবধুর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। গত ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে ফরেস্টডাঙা বাসিন্দা গৃহবধূর মা মেলিয়া চৌধুরী নবদ্বীপ থানায় মেয়ের জামাই, শ্বশুর,শাশুড়ি সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক ছিল।
Advertisement
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে ২৯ মে নতুন আনন্দ বাসের গোপাল ঘোষের সঙ্গে গীতা চৌধুরী ঘোষের বিয়ে হয়। বধূর মা মেলিয়া চৌধুরীর অভিযোগ, সেই বিয়েতে তাঁরা সাধ্যমত দান সামগ্রী দেন। কিন্তু বিয়ের ৬ মাস পর থেকে আরও অতিরিক্ত পণের জন্য জামাই গোপাল ঘোষ, শ্বশুর সুনীল ঘোষ, শাশুড়ি পুতুল ঘোষ, ভাসুর চঞ্চল ঘোষ এবং ননদ বনফুল ঘোষ মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। এমনকী সবসময় আত্মহত্যার প্ররোচনা দিত। প্রায়ই এই সব ঘটনা বাড়িতে এসে জানাতো গীতা। মাস দুয়েক আগে গীতা কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।এরপর থেকে ওরা আমার মেয়ের উপরে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। গত ৪ ডিসেম্বর রাতে লোকমুখে জানতে পারি শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে বিষ খেয়েছে। খবর পেয়ে আমরা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ওদের বাড়িতে ঘরে তালা বন্ধ। ওরা বাড়িতে কেউ নেই। এরপর আমরা কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখি।



