Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে ৮০ বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন যোগনাথতলার প্রতিমার

নবদ্বীপে ৮০ বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন যোগনাথতলার প্রতিমার
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শতাধিক বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন শোভাযাত্রায় গেলেন জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা। নবদ্বীপের প্রথা মেনে এই দেবীর বিশেষ শোভাযাত্রার সাঙকে ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল পূর্ণ মাত্রায়। শনিবার দুপুরে নির্ধারিত সময়েই পুজো মণ্ডপ থেকে যোগনাথতলার গৌরাঙ্গিনী মাতা শোভাযাত্রায় বের হন। এই বিসর্জন যাত্রার সামনে এবং পেছনে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল বিশাল পুলিস বাহিনী।
Advertisement
গৌরাঙ্গিনী মাতা পুজো কমিটির সম্পাদক জয়শঙ্কর পোদ্দার বলেন, প্রায় একশো জনের মতো বেহারার কাঁধে ভর করে প্রতিমা বিসর্জনে নিয়ে যাওয়া হয়। ধুবুলিয়ার ঘাটেশ্বর থেকে আসেন এই সব বেহারারা। ৮০ জন বেহারা কাঁধে করে নিয়ে যান প্রতিমা, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকেন আরও ২০ জন বেহারা। অনেকেই গৌরাঙ্গিনী মাতাকে ভালোবেসে বিসর্জন শোভাযাত্রায় চলে আসেন। নবদ্বীপের রাসের ইতিহাসে এই একটিমাত্র প্রতিমা ঐতিহ্য মেনে বেহারাদের কাঁধে চেপে শোভাযাত্রায় বের হন আজও।
এদিন দুপুর ১টায় যোগনাথতলা গৌরাঙ্গিনী মাতা পুজো মণ্ডপ থেকে বের হন। সেখান থেকে প্রথমে আগমেশ্বরী পাড়া মোড়ের কাছ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঘুরিয়ে ফের যোগনাথতলা মোড় হয়ে পোড়ামাতলা, ঢপওয়ালির মোড়, রাধাবাজার হয়ে দণ্ডপাণিতলা মোড় পর্যন্ত প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আবার ঘুরে এসে রাধাবাজার মোড় এবং পোড়ামাতলায় কিছুটা সময় রাখা হয়। এরপর পীরতলার খালে নিয়ে গিয়ে প্রতিমার বিসর্জন হয়। সকালেই অবশ্য দেবীর ঘট রানিরঘাটে ভাগীরথীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
এদিন সকালের দিকে প্রথমে পোড়ামাতলার প্রাচীনতম কংসবণিকদের কাঁসারি কালী অর্থাৎ বড় ঠাকরুণকে পীরতলা খালে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর বের হয়  হরিসভাপাড়ার ভদ্রকালী, পাকাটোল রোডের সিংহবাহিনী, ওলাদেবীতলার মুক্তকেশী মাতা, চারিচারা বাজারের ভদ্রকালী এবং বড় বাজারের গণেশ। এদিন বিকালের মধ্যে কোনও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, আবার কোনওটি মণ্ডপে এনে ঢুকিয়ে রাখা হয়। রবিবার সকালে সেই সব প্রতিমা নির্দিষ্ট জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে।
তবে এদিন বিসর্জন শোভাযাত্রা চলাকালীন সার্কুলার রোডের মঙ্গলচণ্ডী তলায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হরিসভা পাড়ার ভদ্রকালী। সুবিশাল এই ভদ্রকালী মূর্তিটির পেছনের দিকের কয়েকটি গোজ কাঠামো থেকে হালকা হয়ে সামান্য উঠে যায়। ফলে মূর্তিটি সামনের দিকে হেলে গিয়ে একটি বাড়ির দোতলার কার্নিশে আটকে যায়। মূর্তির কপালের দিকের কিছুটা অংশ দেওয়ালের উপর পড়ে। তবে সামান্য ক্ষতি হলেও অল্পের জন্য বড় কোনও বিপদ ঘটেনি। গোটা ঘটনায় প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা ওই রাস্তাটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিসবাহিনী। পৌঁছয় দমকলের কর্মীরা। নিয়ে আসা হয় ক্রেন। এরপর স্থানীয় বেগুনিয়া পাড়ার গঙ্গামাতা বারোয়ারির সদস্যদের সহযোগিতায় প্রতিমাটিকে কোনওরকম কাঠামোর সঙ্গে ঠিক করে যুক্ত করা হয়। পরে পুরসভার কাছে একটি জলাশয়ে প্রতিমাটিকে বিসর্জন দেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় নবদ্বীপের পথে আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহকারে ১৯০টি বারোয়ারি প্রতিমা লোহার বিশেষ গাড়ি করে বের হয় আড়ং -এ। প্রতিটি প্রতিমা শোভাযাত্রায় সার্কুলার রোড হয়ে রাতে যে যার পুজো মণ্ডপে ফিরে যায়। এর মধ্যে রাতে আড়ং- এর কিছু প্রতিমার বিসর্জন হলেও রবিবার সকাল থেকেই নবদ্বীপ ফাঁসিতলা গঙ্গা ও পীরতলা খাল সহ বিভিন্ন জলাশয়ে বাকিগুলির বিসর্জন হবে। -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ