Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নব্বই ঊর্ধ্বদের বাড়িতেই পৌঁছবে ভাতার টাকা, প্রস্তুতি প্রশাসনের  

নব্বই ঊর্ধ্বদের বাড়িতেই পৌঁছবে ভাতার টাকা, প্রস্তুতি প্রশাসনের  
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার থেকে ৯০-ঊর্ধ্বদের বার্ধক্য ভাতার টাকা পৌঁছে যাবে বাড়িতেই। ওই মর্মে জেলা প্রশাসনের তরফে বাঁকুড়ার প্রতিটি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা শারীরিক অসুস্থতার কারণে ব্যাঙ্কে যেতে পারেন না। তাঁদের টাকা তুলতে সমস্যা হয়। পরিবারের অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। সেকথা বিবেচনা করে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী এবার থেকে তাঁদের টাকা বাড়িতেই পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ৯০শতাংশের বেশি শারীরিকভাবে অক্ষমদের বাড়িতেও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সই অথবা বায়োমেট্রিক সংগ্রহ করে নগদ টাকা হাতে তুলে দেবেন। বাঁকুড়া জেলায় বর্তমানে ৯০-ঊর্ধ্ব ১৪৬৭জন বার্ধক্য ভাতা পান। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে তাঁরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগকে এলাকার বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। 
Advertisement
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে নানা পরিষেবা বাসিন্দাদের দোরগড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই রকমই বয়স্কদের কথাও ভেবেছে সরকার। ওই বয়সে অনেকেই অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তাঁদের ভাতার টাকা তুলতে গেলে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়। একইভাবে ৯০শতাংশের বেশি শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে, তাঁদেরও টাকা তুলতে গেলে পরের উপর নির্ভর করতে হয়। এবার থেকে বাড়িতেই তাঁরা টাকা পেয়ে যাবেন। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের নির্দেশে বাঁকুড়ায় এনিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পরেই জেলার লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে সরকারি নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে উপভোক্তার তালিকা এবং তাঁদের ঠিকানা সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিস থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। 
বাঁকুড়া জেলার লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার বলেন, প্রশাসনের তরফে জেলার ১৪৬৭জন উপভোক্তার বাড়িতে গিয়ে বার্ধক্য ভাতার টাকা পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এব্যাপারে বিভিন্ন এলাকায় থাকা ব্যাঙ্ক মিত্র, ব্যাঙ্ক সখী, সিএসপিকে কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। সেই মতো জেলার সবক’টি ব্যাঙ্ককে জানানো হয়েছে। তাদের নিজ নিজ বিডিও অফিস থেকে তালিকা এবং ঠিকানা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সিনিয়ার স্পেশাল সেক্রেটারি বার্ধক্য ভাতা প্রাপক ৯০-ঊর্ধ্ব এবং ৯০শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বাড়িতে টাকা পৌঁছনোর জন্য জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে নির্দেশ দেন। সেই মতো বাঁকুড়ায় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ঠিক হয়, প্রতিটি ব্যাঙ্ক তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাঙ্ক মিত্র, ব্যাঙ্ক সখী ও সিএসপিদের কাজে লাগাবে।  
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃদ্ধদের বাড়িতে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত  রাজ্য সরকার নিয়েছে, তা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। তার কারণ  বহু জায়গায় বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কের দূরত্ব অনেকটা। বয়স্কদের পক্ষে ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তোলা সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিবেশীদের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। তবে বাড়িতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স ৮০ নির্ধারণ করা হলে আরও বহু মানুষ উপকৃত হতেন।
সম্পর্কিত সংবাদ