বয়স যে নেহাতই একটা সংখ্যা তা প্রমাণ করে দিলেন গুজরাতের নব্বই বছরের পদ্মাবা। এই বয়সে নিজের নেশাকে পেশায় বদলে ফেলেছেন তিনি। গুজরাতের আমেদাবাদ শহরের এই বৃদ্ধার পরিচয় এখন ‘ক্রুশ দিদিমা’ নামে। ওই নামেই তিনি পাড়ায় তো বটেই, গোটা দেশে নাম করে ফেলেছেন। আর শুধু দেশেই বা বলছি কেন? তাঁর হাতের কাজের রীতিমতো কদর হচ্ছে বিদেশেও। অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস সহ আরও নানা দেশের বাসিন্দারা তাঁর করা ক্রুশের তৈরি জ্যাকেট থেকে ওয়াল হ্যাঙ্গিংয়ের খরিদ্দার। তাই নব্বই বছরে তিনি শুধু ব্যবসায়ীই হয়ে ওঠেননি, একেবারে ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন’ ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।
Advertisement
অল্প বয়সে ক্রুশের কাজে পটু ছিলেন পদ্মা। তখন নিছকই শখের ছিল এই কাজ। তা দিয়ে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ তৈরি করতেন। তারপর বিয়ে এবং ঘরকন্নার মাঝে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর এই শখ। ছেলেমেয়ে মানুষ করা, শ্বশুরবাড়ির সকলের দায়িত্ব সামলানো, দু’বেলার রান্না— তা কি মুখের কথা? পদ্মাও এসব কাজেই মেতে থাকতেন। ফাঁকতালে অবশ্য নিজের এই হাতের কাজের শখকেও টিকিয়ে রেখেছিলেন মনে মনে। কখনও অবসরে বসে হয়তো বা ক্রুশের সুতো আর কাঁটা দিয়ে বুনে ফেলতেন ঘর সাজানোর টুকিটাকি। এইভাবেই চলছিল বেশ। নাতনিদের জন্মদিনে হাতে বোনা ফ্রক, কুর্তা, গায়ের ঢাকা ইত্যাদি উপহার দিতেন। লকডাউনে তাঁদেরই বুদ্ধিতে খুলে বসলেন অনলাইন ব্যবসা। ক্রুশের কাজের ওয়েবসাইট ‘পিবি হ্যান্ডমেড’। ব্যস, আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। দেশের পাশাপশি বিদেশেও তাঁর কাস্টমার বেস তৈরি হয়ে গিয়েছে। ক্রুশ দিদিমার হাতের কাজের ফ্যান এখন সকলেই।



