নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সম্প্রীতির কবি নজরুল ইসলামের জীবনেও হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে একাকার। কালী সাধক নজরুল বিয়ে করেছিলেন হিন্দু ঘরের মেয়ে প্রমীলাদেবীকে। দু’জনেরই কেউই আর নেই। থাকার কথাও নয়। তবে, আজও বেঁচে রয়েছেন দু’জনেই। বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে দু’জনকেই। কবির জন্মভিটেতে নজরুল জয়ন্তিতে যেখানে মেলা বসে, তার নাম প্রমীলা সেই মঞ্চকেই নবরূপে সাজিয়ে তুলছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঞ্চের এক পাশে কবি নজরুলের ছবি। অপর পাশে প্রমীলাদেবীর ছবি। সঙ্গে থাকবে বিদ্রোহী কবির কালজয়ী কিছু কবিতার লাইন।
নজরুল জয়ন্তি উপলক্ষ্যে জামুড়িয়ার চুরুলিয়ায় বহু বছর ধরেই হয়ে আসছে নজরুল মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একটা সময়ে নজরুল অ্যাকাডেমি সেই মেলার পরিচালনা করেছে। শেষ কয়েক বছর কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সেই মেলার আয়োজন করে আসছে। মেলার প্রসার হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গরিমা বেড়েছে। এবার সেই আনন্দ অনুষ্ঠানের আরও ব্যাপ্তি ঘটাতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে মেলা আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ চায়, রাজ্য সরকারের নথিভূক্ত লোকশিল্পীরা প্রমীলা মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাক। পাশাপাশি, মেলা না বলে এবার নজরুল উৎসব হিসেবে পালন করতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চন্দন কোনার বলেন, ‘রাজ্য সরকার চুরুলিয়ায় সংস্কৃতিক পর্যটনস্থল হিসেবে তুলে ধরতে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। পর্যটনদপ্তর প্রথমে প্রমীলা মঞ্চের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। রূপরেখা মেনে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেই মঞ্চ থেকেই উৎসবের সূচনা হবে। আমরা রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে যৌথ ভাবে উৎসব করার প্রস্তাব দিয়েছি।’ কবি যখন খুব ছোট তখন চুরুলিয়ায় কালীমন্দিরে শ্যামাসঙ্গীত গেয়ে বেড়াতেন। কৈশোরে বন্ধু হন শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের। যৌবনে প্রেমে পড়লেন প্রমীলাদেবীর। জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই সম্প্রীতির ছাপ রেখে গিয়েছেন বিদ্রোহী কবি। অথচ, তাঁর জন্মভিটে বহুকাল অবহেলায় পড়েছিল। নজরুল অ্যাকাডেমি দীর্ঘকাল কবির সংগ্রহশালা রক্ষণাবেক্ষণ করলেও সেভাবে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন। পরে তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হয় সংগ্রহশালা থেকে শুরু করে কবির জন্মভিটে, প্রমীলা মঞ্চ সবই। তারপর পর্যটনদপ্তর কবির স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি সংস্কারে অগ্রসর হয়। তারই প্রথম পদক্ষেপ প্রকাশ্যে আসতে চলেছে নজরুল উৎসবেই।