নয়াদিল্লি: ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী হিংসা মামলায় সাজা হয়েছিল। সম্প্রতি মারা গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ সজ্জন কুমার। এবার সমবেদনা জানাতে প্রয়াত সজ্জনের বাড়িতে গিয়ে বিপাকে বিজেপির তিন সাংসদ। দলের অন্দরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রামবীর বিদুরি, যোগেন্দর চান্দোলিয়া ও কমলজিৎ শেরাওয়াত নামে ওই তিন সাংসদ। তাঁদের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘ওই সাংসদদের ওখানে যাওয়া ঠিক হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসায় একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন সজ্জন । ২০১০ সালে শিখবিরোধী দাঙ্গায় জোড়া খুনে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল দিল্লির একটি আদালত। জেলবন্দি থাকাকালীনই গত আগস্ট মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। এরইমধ্যে প্রয়াত সজ্জনকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে যান বিজেপির তিন সাংসদ। এই ঘটনায় শিখবিরোধী দাঙ্গায় আক্রান্তদের পক্ষের আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা এইচএস ফুলকা নিশানা করেন তাঁদের। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গণহত্যাকারী সজ্জন কুমারের মৃত্যুর পর তিন বিজেপি সাংসদের তার বাড়ি গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ভয়াবহ হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা থাকুক। এই তিন সাংসদকে বয়কট করা হোক।’ সেই পোস্ট শেয়ার করে খোঁচা দেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর কটাক্ষ, ‘অনেকেরই অভিযোগ, শিখ বিরোধী হিংসার সময় কংগ্রেসকে সাহায্য করেছিলেন আরএসএস ও বিজেপি নেতারা। ওই তিন সাংসদ এখনো সজ্জন কুমারের প্রতি সহানুভুতিশীল। শিখদের পিঠে ছুরি মারা এই সাংসদদের কি বহিষ্কার করবেন নীতিন নবীন?’
শিরোমণি অকালি দলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের মুখে এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। ওই সাংসদদের কার্যকলাপ সম্পর্কে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেন বিজেপি সভাপতি। এর আগে কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর হুড়াও সজ্জনকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলের অন্দরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।