সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে সীমান্ত সুরক্ষা, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করল নেভাল এনসিসি-এর ৬০ জন ক্যাডেট। বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম ডিরেক্টরেটের অধীনে থাকা নির্বাচিত ক্যাডেটদের নিয়ে মালদহের মহদীপুর সীমান্ত সংলগ্ন বিএসএফ আউটপোস্টে এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ভারতীয় নৌসেনার নেভাল উইং এবং বিএসএফ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ওয়ান বেঙ্গল নেভাল এনসিসি-র কমান্ডিং অফিসার সঞ্জীব সারান, বিএসএফ-এর ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট বিভোর সিং সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকেরা।
নদীপথে আয়োজিত বহুজেলা হুগলি সংকল্প যাত্রা ২০২৬ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ছিল এই সীমান্ত পরিদর্শন কর্মসূচি। দিনভর ক্যাডেটদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্পর্শকাতর পরিকাঠামো এবং সীমান্তরক্ষীদের দৈনন্দিন কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত ধরণা দেওয়া হয়। এদিন বিএসএফ এর পক্ষ থেকে সীমান্ত প্রহরায় ব্যবহৃত ১০টি আধুনিক অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের বিশেষ প্রদর্শনী ও সেগুলির ব্যবহারিক প্রয়োগ ক্যাডেটদের শেখানো হয়। পাশাপাশি, নজরদারি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখার কৌশল সরাসরি দেখার সুযোগ পান তরুণ ক্যাডেটরা। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সীমান্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় রাখিবন্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সিনিয়র উইংস এর মহিলা ক্যাডেটরা সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতির বার্তা প্রকাশ করেন। দেশরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ান ও ক্যাডেটদের মধ্যে তৈরি হয় এক আত্মিক মেলবন্ধন। পরিবেশ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু ফলের ও ছায়াদার গাছের চারা রোপণ করা হয়। ক্যাডেট সুহানি দেব বলেন, সম্প্রতি আমি ভিয়েতনামে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি। সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের দেশের কৃষ্টি কালচার আদানপ্রদান হয়েছে।
অভিযানের উদ্দেশ্য তুলে ধরে কমান্ডিং অফিসার সঞ্জীব সারান বলেন, এই ধরনের সীমান্ত সফর ক্যাডেটদের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক সেতু তৈরি করে দেয়। দেশের আন্তর্জাতিক সীমানায় প্রহরারত জওয়ানদের জীবনযাত্রা, দায়িত্ব এবং নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন তরুণ প্রজন্ম। তিনি আরও বলেন, হুগলি সংকল্প অভিযানের মাধ্যমে নদীপথের অভিযানের পাশাপাশি ক্যাডেটদের মনে জাতীয় নিরাপত্তা, অটুট দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের চেতনা আরও সুদৃঢ় করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।