গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: কাটমানি নিয়ে একটি অডিয়ো ভাইরাল হতেই বালুরঘাটের রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে! বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের কাছ থেকে ‘কাটমানি’র টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে পুরানো একটি অডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় এক ঠিকাদার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে ওই ব্যবসায়ীকে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের কাছে ‘কাটমানি’র টাকা ফেরতের দাবি করতে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে ওই অডিয়োতে। যদিও ‘বর্তমান’ এই ভাইরাল অডিয়ো’র সত্যতা যাচাই করেনি। বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
অশোকবাবু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ করেছেন তাঁকে আমি চিনি না। তিনি আমাকে দু’একবার ফোন করেছিলেন। তিনি বিল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলাম। তিনি এখন কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন তা আমি বলতে পারব না। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই আইনগত ভাবে এর মোকাবিলা করব। জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ তুলেছেন, হুমকি দিয়ে অশোক মিত্র তাঁর কাছ থেকে নয় লক্ষ টাকা কাটমানি আদায় করেছিলেন। তিনি বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। কাটমানি নিয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিয়ো তিনি প্রমাণ হিসাবে থানায় জমা দিয়েছেন।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী শিবাবল্লভ অধিকারী বলেন, টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার পর অনুমোদন পেতে আমার কাছে অশোকবাবু কাটমানি চেয়েছিলেন। কাটমানি না দিলে আমাকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে না। তাই আমি কাটমানি দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। এর ফলে আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা রকম টালবাহানা করতে থাকেন। এমনকি হুমকিও দেওয়া হয়েছে! তাই বাধ্য হয়ে থানার দ্বারস্থ হয়েছি।
বালুরঘাট পুরসভায় ২০২২ সালের ২৩ মার্চ তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড গঠন হয়। ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অশোক মিত্র। প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, তৃণমূলের ওই নেতার বিরুদ্ধে আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। আমাদের সরকার জানিয়েছে, যাঁরা এভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আমরা ওই ব্যবসায়ীর পাশে রয়েছি।