সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: চিকিৎসকের সহকারী যাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছেন ভ্রণ প্রতিস্থাপনকারী বিশেষজ্ঞ। সেই স্বঘোষিত চিকিৎসক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে রোগীদের ভুয়ো ডাক্তার সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তা শুনে অনেকেই বলছেন, চালুনি করে সূচের বিচার!
ভিডিওতে নিজেকেই সিনিয়র এমব্রায়োলজিস্ট বলে দাবি করেছেন। তাতে অবশ্য চিঁড়ে ভিজছে না। স্বঘোষিত ওই চিকিৎকের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। ক’দিন আগেই তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তারপরও তিনি বুক ফুলিয়ে আরামবাগে আইভিএফ সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিও’তে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমি একজন সিনিয়র এমব্রায়োলজিস্ট। নিঃসন্তান দম্পতিদের নিজের হাতে কাউন্সেলিং করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারি। ভ্রণ কেমন হবে, বাচ্চা আসবে কি না, তা বলতে পারি। রাম, শ্যাম, যদুকে বসিয়ে এমব্রায়োলজিস্ট সাজালে হবে না। শিক্ষিত মানুষদের বিষয়টি বোঝা উচিত। অনেকে বাজে খপ্পরে পড়তে পারেন। বাইরে থেকে বহু লোক এসে পরামর্শ দেবেন। প্রত্যেকে সজাগ থাকবেন।’
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘একজন ভুয়ো চিকিৎসক আইভিএফ সেন্টার চালাচ্ছেন, এটা ভাবতেও অবাক লাগছে। এমব্রায়োলজিস্ট হওয়া মুখের কথা নয়। অথচ, তিনি নিজেকে ভ্রুণ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক বলে দাবি করছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরে বিষয়টি নিয়ে আমিও অভিযোগ করব।’ বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, ‘ওই ভুয়ো চিকিৎসক সীমা পেরিয়ে গিয়েছেন। তিনি চরম অন্যায় করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যাতে এফআইআর হয়, এবার সেই ব্যবস্থাও করব।’ ভুয়ো চিকিৎসকের এহেন কীর্তি দেখে আরামবাগ শহরের বহু প্রকৃত চিকিৎসকও হতবাক। তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও কেন নড়েচড়ে বসছে না স্বাস্থ্যদপ্তর?
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, আরামবাগ মহকুমা থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে। সমস্ত নিয়ম মেনে ওই আইভিএফ সেন্টারটি তৈরি হয়েছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে। ক’দিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায় দুর্গাপুরে বলেন, ‘ভুয়ো ডাক্তারদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরামবাগের ওই ভুয়ো চিকিৎসক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সার্জেনরা কখনই আইভিএফ করতে পারেন না। কোথাও রোগী দেখতে গিয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে। আমি হুগলি জেলার বাসিন্দা। বাইরে থেকে এসে কেউ ভুল বোঝালে বিশ্বাস করবেন না।’
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের একাধিক ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। অনেকে আটর্স বা কর্মাস নিয়ে পড়াশোনা করেও বিহার থেকে ডাক্তারি পড়েছেন বলে ডিগ্রি হাঁকিয়ে প্র্যাকটিস করছেন। এ রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিল তাঁদের নাকি চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হচ্ছে। মেডিকেল কাউন্সিলের কেউ এই চক্রে যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ওই কর্তা।