নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ঝুলিতে নেই একটিও পুরস্কার। তাতে আক্ষেপ রয়েছে পুরুলিয়া জেলার অন্যতম নাটুয়া জগন্নাথ কালিন্দির। তবে তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব দরবারে উঠে এল লালমাটির জেলার অন্যতম লোকশিল্প নাটুয়া নৃত্য। এতে অবশ্য গর্বিত জগন্নাথবাবু। তিনি বলেন, দীর্ঘ জীবনে এই লোকশিল্পের প্রসারের চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখিনি। যদিও আজ পর্যন্ত কোনও পুরস্কার জোটেনি। তবে, বিদেশের মাটিতে আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার যে সুযোগ আমি পেয়েছি তাতেই খুশি। শিল্পী হিসেবে এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর ব্লকের পাঁড়দ্দা গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ কালিন্দি। বাল্য বয়স থেকেই তিনি লোকশিল্পের সঙ্গে জড়িত। একাধিক সময়ে ছৌ নাচের অন্যতম শিল্পী হিসেবে দেশ ও বিদেশের অনুষ্ঠান মঞ্চ মাতিয়ে তুলেছিলেন। তবে, নাটুয়া নৃত্যশিল্পী হিসেবে এই প্রথম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সূদুর জাপানে পারি দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ভাইপো নৃপেন কালিন্দি সহ শিকার মাহাত ও বৈদ্যনাথ মাহাতরাও ছিলেন। একযোগে চারজনে ছ' দিন ধরে জাপানে অল স্পট ফেস্টিভ্যালের মঞ্চ মাতিয়ে তুলেছিলেন। পুরুলিয়ার এই লোকনৃত্য দর্শকাশনের থাকা সকলকেই মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলেছিল। ঘনঘন হাততালির শব্দে মোহিত হয়েছিলেন শিল্পীরাও। কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা করে নিতে পেরেছে নাটুয়া নৃত্য। দাবি খোদ নাটুয়া নৃত্যশিল্পীদের। জানা গিয়েছে, জাপানের ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভারতের পাশাপাশি আরও একাধিক দেশের শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন। ওই মঞ্চে ভারতের হয়ে একাধিক রাজ্যের শিল্পীরা যোগ দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে অগ্রাধিকার পেয়েছিলেন এই চার নাটুয়া। সকলেই পাঁড়দ্দা হরিজন নাটুয়া নৃত্য পার্টির সদস্য।



